📌 ঝিনাইদহ পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ১৭৫ মামলায় ২৩৫ আসামির ডোপ টেস্ট করায় ২২২ জনের শরীরে মাদক পাওয়া গেছে। তবে সরকারি বরাদ্দ না পেলে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজের পকেট থেকে ৯০০ টাকা করে খরচ করছেন। সংক্ষিপ্ত বিচারে ২২১ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়ে মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত করছেন। তবে সরকারি বরাদ্দের অভাবে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজের পকেট থেকে প্রতিটি টেস্টের ৯০০ টাকা খরচ করছেন। গত ১৪ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৫ মামলায় ২৩৫ আসামির ডোপ টেস্ট করা হয়, যার মধ্যে ২২২ জনের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহ পুলিশ ১৭৫ মামলায় ২৩৫ আসামির ডোপ টেস্ট করায় ২২২ জন মাদকসেবী শনাক্ত
- 📌 সরকারি বরাদ্দ না পেলে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজের পকেট থেকে ৯০০ টাকা করে খরচ করছেন
- 📌 ৫৬ দিনে ২২১ জনকে সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ডিত করা হয়েছে
- 📌 শৈলকুপা থানায় ৪২ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে, কিন্তু খরচের তুলনায় সামান্য
- 📌 ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ছাড়া জেলায় কোনো ডোপ টেস্ট সুবিধা নেই
📰 বিস্তারিত
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত ১৪ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৫ মামলায় ২৩৫ আসামির ডোপ টেস্ট করায় ২২২ জনের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে আসামিদের সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই উদ্যোগ অর্থসংকটে পড়েছে। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় প্রতিটি ডোপ টেস্টের জন্য ৯০০ টাকা খরচ করতে হয়। এই খরচ বহন করছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মিয়া মোহম্মদ আশিস বিন্ হাছান বলেছেন, ‘সমাজের মানুষ মাদকসেবীদের শনাক্ত হোক এবং আইনের আওতায় আসুক, সে কারণে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আমরা নিজের পকেট থেকে খরচ করছি।’
চলতি মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত ৫৬ দিনে ২২১ জনকে সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫০ জন, শৈলকুপায় ৮৫ জন, হরিণাকুণ্ডুতে ১২ জন, কালীগঞ্জে ২৯ জন, কোটচাঁদপুরে ১০ জন এবং জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ৩৫ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ছাড়া জেলার অন্য কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোপ টেস্টের সুবিধা নেই। ফলে আসামিদের সবাইকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে শৈলকুপা থানায় ৪২ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ ৭০টি টেস্টের খরচ বহন করেছে। তবে এই অনুদান খরচের তুলনায় সামান্য বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
"প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পেলে পুলিশ সদস্যদের আগ্রহ হারানোটা স্বাভাবিক। তখন ডোপ টেস্ট ও শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সামারি ট্রায়ালে হাজির করা সম্ভব হবে না। গতানুগতিক মামলা হবে।"
ঝিনাইদহের এসপি মিয়া মোহম্মদ আশিস বিন্ হাছান আরও বলেছেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরে এখনো জানানো হয়নি। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের গঠিত কমিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মহোদয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে যদি ডোপ টেস্ট ফ্রি করে দেওয়া হয়, তাহলে এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ জেলা (সদর, শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুলিশ সুপার মিয়া মোহম্মদ আশিস বিন্ হাছান, ওসি হুমায়ূন কবির মোল্লা, পরিদর্শক গৌরাঙ্গ কুমার বসু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৫ মামলা, ২৩৫ আসামি, ২২২ মাদকসেবী, ৯০০ টাকা প্রতি টেস্ট, ২২১ জন দণ্ডিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!