📌 ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে নতুন নামের কোডিনযুক্ত 'কাশির সিরাপ'। চলতি বছর ৪-৫ লাখ বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভারতকে চিঠি দিয়েছে এবং ৬২টি অবৈধ কারখানার তথ্য তুলে ধরেছে
বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে নতুন নামের কোডিনযুক্ত নেশার সিরাপ প্রবেশ করছে। ফেনসিডিলের চোরাচালান রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হলেও মাদক কারবারিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। চলতি বছর সীমান্ত এলাকায় ৪ থেকে ৫ লাখ বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪-৫ লাখ বোতল** সিরাপ জব্দ: সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলতি বছরে জব্দ করেছে।
- 📌 **ফেনসিডিলের বিকল্প** হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে: ফেয়ারডিল, এস্কাফ, ব্রোনোকফ সি, উইনকোরেক্স ও চোকো প্লাস নামের সিরাপে কোডিন ফসফেট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 **৬২টি অবৈধ কারখানা** ভারতের সীমান্তে: বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভারতকে চিঠি দিয়েছে এবং ১০টি এলাকায় অন্তত ৬২টি অবৈধ কারখানার তথ্য তুলে ধরেছে।
- 📌 **৩৭৪ জন ভারতীয় নাগরিকের** যোগাযোগ: এসব কার্যক্রমের সঙ্গে অন্তত ৩৭৪ জন ভারতীয় নাগরিকের তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 **ব্রোনোকফ সি সিরাপে** প্রতি ৫ মিলিলিটারে ১০ মিলিগ্রাম কোডিন ফসফেট ও ৪ মিলিগ্রাম ক্লোরফেনিরামিন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 **৫৫ হাজার ৬২৬ বোতল** সিরাপ জব্দ: ভারতের ত্রিপুরায় চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ট্রেন থেকে জব্দ করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ফেনসিডিলের চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে মাদক কারবারিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে কোডিনযুক্ত সিরাপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফেনসিডিলের নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন ওষুধের নামে কোডিনযুক্ত সিরাপ পাচার করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেয়ারডিল, এস্কাফ, ব্রোনোকফ সি, উইনকোরেক্স ও চোকো প্লাস। ব্রোনোকফ সি সিরাপে কোডিন ফসফেট থাকার তথ্য ভারতের ওষুধসংক্রান্ত নথিতেও পাওয়া গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেছেন, নতুন নতুন নামের নেশার সিরাপ সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে মাদক কারবারিরা। বিষয়টি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের ১০টি এলাকায় অন্তত ৬২টি অবৈধ কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব কারখানায় কোডিনযুক্ত সিরাপ উৎপাদনের তথ্য রয়েছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ৩৭৪ জন ভারতীয় নাগরিকের তথ্যও পেয়েছে বাংলাদেশ।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও মালদহ এবং ত্রিপুরার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল, সিপাহিজলা, বিলোনিয়া ও শান্তিরবাজারসহ মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকায় এসব অবৈধ কারখানা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় চোকো ও এস্কাফ নামে ভারতীয় কাশির সিরাপের বিস্তার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় মাদকসেবীদের কেউ কেউ এসব সিরাপকে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বোতলের গায়ে নাম পরিবর্তন হলেও এসব সিরাপে নেশার উপাদান হিসেবে কোডিন থাকছে। উদাহরণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রোনোকফ সি সিরাপের প্রতি ৫ মিলিলিটারে ১০ মিলিগ্রাম কোডিন ফসফেট এবং ৪ মিলিগ্রাম ক্লোরফেনিরামিন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতের ত্রিপুরায়ও চলতি বছরের জুলাইয়ে বিপুল পরিমাণ ফেয়ারডিল ও এস্কাফ কাশির সিরাপ জব্দের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি পণ্যবাহী ট্রেন থেকে ৫৫ হাজার ৬২৬ বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়। এগুলো বাংলাদেশে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
"মাদক কারবারিরা নতুন নতুন কৌশলে এগোবে। তবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এগুলো যে ওষুধ নয়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।"
— মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, রাজশাহী, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫ লাখ বোতল সিরাপ জব্দ, ৬২টি অবৈধ কারখানা, ৩৭৪ জন ভারতীয় নাগরিক, ৫৫ হাজার ৬২৬ বোতল সিরাপ জব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!