📌 ঢাকার মনসুরাবাদ এলাকার একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে পরিবার বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে গৃহকর্মী হাজেরা বেগমের ছেলে, স্ত্রী, নাতনি এবং দুই ছেলের স্ত্রী
ঢাকার মনসুরাবাদ এলাকায় বসবাসকারী গৃহকর্মী হাজেরা বেগমের পরিবারের পাঁচ সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন ছেলে, দু’জন ছেলের স্ত্রী এবং ১৫ মাস বয়সী নাতনি। হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে পরিবার বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাজেরা বেগমের পরিবারের ১১ জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত — দু’জন ছেলে, দু’জন ছেলের স্ত্রী ও ১৫ মাস বয়সী নাতনি
- 📌 হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, কিন্তু অসুস্থতা বাড়লে আবার হাসপাতালে ভর্তি
- 📌 ছেলে আনিস মিয়া (২৪) পাঁচ দিন ধরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি — ডেঙ্গু চিকিৎসায় ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে
- 📌 হাসপাতালের নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৪১টি শয্যার মধ্যে ৪০টিতে রোগী — পুরুষ ওয়ার্ডে ৫০টি শয্যার মধ্যে ৪০টিতে রোগী
- 📌 মশকনিধন কার্যক্রমের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্ত রোগীরা
📰 বিস্তারিত
হাজেরা বেগম (৫০) বলেছেন, ‘কালকে রাগ কইরা ফালাই থুইয়া গেছিলাম গা, টাকাপয়সা জোগাড় করতে পারি নাই দেখা। ম্যানেজ কইরা আবার আইছি। সকালবেলা যখন শুনছি পাতলা পায়খানা করতেছে, মা তো, আমি থাকতে পারি নাই।’ তিনি জানান, ছেলে আনিস মিয়া (২৪) গত ২৮ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। শয্যা না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যান। ৩০ তারিখ রাতে অসুস্থতা বাড়লে আবার হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাজেরা বেগমের ছোট ছেলে আনিস মিয়া (২৪) পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাসায় নিয়ে রাখছিলাম। রোববার বমি করতে করতে বাথরুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। আবার এইখানে নিয়ে আসছি। তারপর ভর্তি করছে।’ তিনি জানান, ছেলের চিকিৎসায় ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধার করে হাসপাতালে এসেছেন।
হাসপাতালের নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৪১টি শয্যার মধ্যে ৪০টিতে রোগী রয়েছে। পুরুষ ওয়ার্ডে ৫০টি শয্যার মধ্যে ৪০টিতে রোগী আছেন। বেশিরভাগ রোগী মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকার।
হাজেরা বেগমের বড় ছেলে হাবিব মিয়া জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাঁকেও বোধ হয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। অন্য একজন আক্রান্ত রোগী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নিয়ামুল। তাঁর বাবা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, ‘ছেলের খাওয়ার রুচি নেই। জোর করে প্রতি বেলা কিছুটা খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।’
হাসপাতালের নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১২ বছর বয়সী তানহা (১২) ও ৮ বছর বয়সী তালহা (৮) ভর্তি আছেন। তাদের মা মাকসুদা বেগম জানান, ‘গত মঙ্গলবার তানহার জ্বর শুরু হয়। এরপর তিন দিন বাড়িতে রেখেই সেবাযত্ন করেছি। গত মঙ্গলবার পেট এবং বুকব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন শরীরের ব্যথাটাই আছে। পেটব্যথা একটু বেশি, পেটটা ফুলে আছে। শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। খাওয়ার রুচিটা নাই।’
"মশা নিধনের ওষুধ দেওয়া মানে খালি ধুমা। চুরি করতে করতে ওষুধের টাকা খাইয়া লায়। আর কেরোসিন ভইরা খালি ধুমা দেয়। মশা ওই ধুমার ওপরে খেলা করে।"
সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। মশা নিধনের ওষুধ দেওয়া মানে খালি ধুমা। চুরি করতে করতে ওষুধের টাকা খাইয়া লায়। আর কেরোসিন ভইরা খালি ধুমা দেয়। মশা ওই ধুমার ওপরে খেলা করে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মনসুরাবাদ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কল্যাণপুর, আগারগাঁও)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজেরা বেগম, আনিস মিয়া (২৪), হাবিব মিয়া, মাকসুদা বেগম, মো. ফজলুল, মো. আনোয়ার, সাদ আহম্মদ, মো. ইব্রাহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন আক্রান্ত, ১১ জন পরিবার, ১৫ মাস বয়সী নাতনি, ২৪ বছর বয়সী ছেলে, ৮-৯ হাজার টাকা খরচ, ৪০টি শয্যা পূর্ণ (৪১টি শয্যার মধ্যে), ৪০টি শয্যা পূর্ণ (৫০টি শয্যার মধ্যে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!