📌 ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামে ১২টি বাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে ৭০ জনকে বাসহীন করে দিয়েছে। গ্রামবাসীরা পুনরুদ্ধারের প্রতিজ্ঞা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘এই জমিতে আমরা আবার বাসা গড়বো’
পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলের খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণ করে ১২টি বাড়ি ও গ্রামের অন্যান্য অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে গ্রামের প্রায় ৭০ জন বাসিন্দা বাসহীন হয়ে পড়েছেন। ধ্বংসের পরও গ্রামবাসীরা পুনরুদ্ধারের প্রতিজ্ঞা দিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা এই জমিতে আবার বাসা গড়বেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২টি বাড়ি ও গ্রামের অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস: ইসরায়েলি বাহিনী খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামে অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণ করে গ্রামের সব বাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, যা গ্রামের ইতিহাসে একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- 📌 ৭০ জন বাসিন্দা বাসহীন: এই ধ্বংসযজ্ঞে গ্রামের প্রায় ৭০ জন বাসিন্দা বাসহীন হয়ে পড়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।
- 📌 মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে ধ্বংসের ধারা অব্যাহত: খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামের ধ্বংসের পরেও মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলের অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত, তারা ভয় পাচ্ছেন যে তাদের গ্রামও ধ্বংসের শিকার হবে।
- 📌 বাসিন্দাদের পুনরুদ্ধারের প্রতিজ্ঞা: গ্রামের বাসিন্দারা বলেছেন, তারা এই জমিতে আবার বাসা গড়বেন এবং তাদের জীবন পুনরুদ্ধার করবেন। তারা বলেছেন, ‘এই জমি আমাদের, এখানে আমরা আবার বাসা গড়বো’।
📰 বিস্তারিত
খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামের বাসিন্দারা ধ্বংসযজ্ঞের পরও আত্মবিশ্বাস হারায়নি। মাসাফের ইয়াত্তা কাউন্সিলের প্রধান নিদাল ইউনিস বলেছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞকে ‘গ্রামকে পৃথিবীর চেহারা থেকে মুছে ফেলার’ চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “গ্রামবাসীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে থাকার এবং দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এই জমির কোনো বিকল্প দেখেন না।”
ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামে আক্রমণ করে বাসিন্দাদের ‘বলপূর্বক বের হওয়ার’ আদেশ দিয়েছিল। গ্রামের বাসিন্দা নাসের মাহমুদ ওবাইদ বলেছেন, তিনি ১৯৯৯ সালে একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী ছিলেন এবং এরপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিবাসীদের আক্রমণে গ্রামটি ভুগছে। তিনি বলেছেন, “আমি ১৯৭৭ সালে এই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি এবং আমার পিতা-পিতামহও এখানে বসবাস করতেন। এই জমি আমাদের, এখানে আমরা আবার বাসা গড়বো এবং পুনরুদ্ধার করবো। আমরা আশা হারাইনি এবং হারাবো না।”
৩২ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাসকারী সুয়াদ মোহাম্মদ ওবাইদ ধ্বংসযজ্ঞের পরও তার জীবনের কিছু মূল্যবান জিনিস খুঁজছেন। তিনি বলেছেন, তার বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পরেও তিনি তার সিঙ্গার মেশিন খুঁজছেন, যেটি তিনি তার স্বামীর জন্য পোশাক তৈরি করতে এবং তার সন্তান-সন্ততিদের জন্য ব্যবহার করতেন। তিনি বলেছেন, “তারা খিরবেত আল-তাব্বান সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে এবং গ্রামটিকে পৃথিবীর চেহারা থেকে মুছে ফেলেছে। আমার জীবন এখন ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।”
ইসরায়েলের যুক্তি ছিল যে ধ্বংসকৃত বাড়িগুলো অনুমোদিত ছিল না। তবে পশ্চিম তীরের এলাকা সি-তে বসবাসকারী ফিলিস্তিনীদের জন্য অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলকে দশক ধরে সামরিক গোলাগুলির অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিদাল ইউনিস বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিনিদের বসতি পরিবর্তন করা এবং এই অঞ্চলের বাস্তবতা পরিবর্তন করা।”
"এই জমি আমাদের, এখানে আমরা আবার বাসা গড়বো এবং পুনরুদ্ধার করবো। আমরা আশা হারাইনি এবং হারাবো না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খিরবেত আল-তাব্বান গ্রাম, পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিদাল ইউনিস (মাসাফের ইয়াত্তা কাউন্সিলের প্রধান), নাসের মাহমুদ ওবাইদ, সুয়াদ মোহাম্মদ ওবাইদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি বাড়ি ধ্বংস, ৭০ জন বাসিন্দা বাসহীন, ৩২ বছর ধরে বসবাসকারী সুয়াদ মোহাম্মদ ওবাইদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!