📌 মিরপুরের একাডেমিয়ায় পড়ুয়া তিন বোন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বড় বোন আরোশী ২৫ অক্টোবর মারা যান। বাবা-মা দুঃখে ভেঙ্গে পড়েন। ছোট দুই বোনও আক্রান্ত হলেও তাদের অবস্থা খারাপ নয়
মিরপুরের একাডেমিয়ার মেয়েদের বাসায় ডেঙ্গু মহামারীর শিকার হয়ে পড়েন তিন বোন। তাদের মধ্যে বড় বোন আরোশী ২৫ অক্টোবর মারা যান। বাবা-মা দুঃখে ভেঙ্গে পড়েন। ছোট দুই বোন সাকেরা ও সরোশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের অবস্থা আরোশীর মতো খারাপ নয়। বাবা দন্তচিকিৎসক হাসানুজ্জামান বলেছেন, ‘আমার ফাইটার মেয়েটা কথা রাখেনি। হাসপাতালে যাওয়ার দিনও বলেছিলাম, আমরা পাঁচজনই বাসায় ফিরব। কিন্তু একজনকে ছাড়াই ফিরতে হলো।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ অক্টোবর ১টা ২৬ মিনিটে মিরপুরের একাডেমিয়ার বড় বোন আরোশী ডেঙ্গুতে মারা যান। তার বয়স ছিল ১৫ বছর।
- 📌 ১৯ অক্টোবর আরোশীর ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ছোট দুই বোন সাকেরা ও সরোশীও আক্রান্ত হন।
- 📌 ২২ অক্টোবর তিন বোনকে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিআরবি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয় আরোশীকে।
- 📌 ২০১১ সালের ১১ জুলাই জন্মগ্রহণকারী আরোশী তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে নিজের মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপে মায়ের কাছে লেখেন, ‘আমি হাল ছেড়ে দেব না’।
- 📌 মারা যাওয়ার পর আরোশীকে নোয়াখালীর মাইজদীতে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়। বাবা-মা দুঃখে ভেঙ্গে পড়েন।
- 📌 বাবা-মা বলছেন, ডেঙ্গুতে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও থাকে না। পরিবারের ১৪ জন চিকিৎসক থাকলেও আরোশীকে বাঁচাতে পারেননি।
- 📌 ছোট দুই বোন বড় বোনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। তাদের অবস্থা খারাপ হলেও আরোশীর মতো নেই।
📰 বিস্তারিত
মিরপুরের একাডেমিয়ার মেয়েদের বাসায় ডেঙ্গু মহামারীর শিকার হয়ে পড়েন তিন বোন। বড় বোন আরোশী নবম শ্রেণিতে পড়তেন। ছোট দুই বোন সাকেরা প্রথম শ্রেণিতে এবং সরোশী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিলেন। ১৯ অক্টোবর আরোশীর জ্বর আসে এবং পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর ছোট দুই বোনও আক্রান্ত হন। বাবা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমে বাসাতেই তাদের তরল খাবার খাওয়ানো এবং প্রতিদিন প্লাটিলেটসহ অন্যান্য পরীক্ষা করা হত। আরোশী খেতে পারলেও বমি হচ্ছিল। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে ২২ অক্টোবর তিন মেয়েকে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন মেয়ের শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে এবং বিআরবি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।’
২৫ অক্টোবর বেলা ১টা ২৬ মিনিটে আরোশী মারা যান। বাবা বলেন, ‘মেয়ের প্লাজমা লিকেজ হচ্ছিল এবং কিডনি কাজ করছিল না। মেয়েকে বলেছিলাম, তুমি আমার ফাইটার গার্ল, ফাইট করো। মেয়ে বলেছিল, বাবা আমি হাল ছেড়ে দেব না। আমি ফাইট করব।’ মেয়ের অবস্থা দেখে বাবা বুঝতে পারছিলেন, হাতে আর বেশি সময় নেই। তিনি মেয়ের কাছে মাফ চান এবং মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মারা যাওয়ার পর প্রথম জানাজা বাবা-মার নিজস্ব ফ্ল্যাটে অনুষ্ঠিত হয়। পরে নোয়াখালীর মাইজদীতে দাদা-দাদির কবরের পাশে আরোশীকে দাফন করা হয়। বাবা বলেন, ‘বড় মেয়ে যখন আইসিইউতে, তখন দুই মেয়ে অন্য হাসপাতালে। আমরা দুই হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। নোয়াখালী যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে বড় মেয়ের লাশ, গাড়িতে আমার হাত ধরে আছে মেজ মেয়ে। আর এক মেয়ে হাসপাতালে, সে জানেই না তার বোন মারা গেছে। এ অবস্থার মধ্যে আমাদের দিন-রাত পার করতে হয়েছে।’
আরোশী মারা যাওয়ার পর ছোট দুই বোন কথা বলাই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে। নিজেদের আলাদা রুম থাকলেও ওরা একসঙ্গেই সময় কাটাত এবং খুনসুটি করত। বাবা বলেন, ‘বাবা চিকিৎসক হলেও ডেঙ্গু তো চিকিৎসক বা অন্য কিছু বিচার করে না। ডেঙ্গুর চারটি সিরোটাইপের মধ্যে কোনটি আক্রমণ করবে তা পূর্বাভাস করা যায় না।’
"আমি হাল ছেড়ে দেব না। আমি ফাইট করব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরপুর, ধানমন্ডি, নোয়াখালীর মাইজদী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসানুজ্জামান (বাবা), সাফিয়া হাসিন আরোশী (বড় বোন), সাকেরা হাসিন রোদশী ও হাসিন সরোশী (ছোট দুই বোন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (আরোশীর বয়স), ১৯ অক্টোবর (ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তারিখ), ২৫ অক্টোবর (মৃত্যু তারিখ), ১৪ জন (পরিবারের চিকিৎসক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!