📌 গ্রামবাংলার রূপকথা থেকে বাস্তবতা হয়ে উঠেছে শকুনের বিলুপ্তির গল্প। প্রজাতির সংখ্যা কমে ৫টিতে, অত্যাচার ও পরিবেশগত কারণে এখন বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস পালিত হয়
গ্রামবাংলার রূপকথা থেকে বাস্তবতা হয়ে উঠেছে শকুনের বিলুপ্তির গল্প। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় অপরিহার্য এই পাখিরা আজ বিলুপ্তির পথে। প্রাক্তন বিশ্বাসের মতোই শকুনের উপস্থিতি মৃত্যুর পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন শকুনের সংখ্যা কমে ৫টিতে সীমিত হয়েছে, এবং তাদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস পালিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শকুনের উপস্থিতি দেখে দাদি-নানিরা বলতেন, ‘মরার হগুন উড়ত্যাছে, গোয়াল ঘরে ধুমা দে’ — মৃত্যুর পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হতো এই পাখি
- 📌 কামারখন্দ উপজেলার বয়োবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন (১০৪) বলেন, শকুন অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর চারপাশে ঘোরে এবং চক্রাকারে ঘুরে বেড়ায়
- 📌 বাংলাদেশে এখন মাত্র ৫ প্রজাতির শকুন দেখা যায় — বাংলা শকুন, সরুর ঠোঁটিশকুন, রাজশকুন, কালোশকুন ও হিমালয়ান শকুন
- 📌 ডা. লিন্ডসে’র গবেষণায় প্রমাণিত, শকুন রোগাক্রান্ত মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশ রক্ষা করে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা ও খুরারোগের সংক্রমণ রোধ করে
- 📌 শকুনের উপর অত্যাচার, ডাইক্লোফেনাকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মানুষের হস্তক্ষেপই তাদের বিলুপ্তির মূল কারণ
📰 বিস্তারিত
গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়িতে শকুনের উপস্থিতি মৃত্যুর পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হতো। দাদি-নানিরা বলতেন, ‘মরার হগুন উড়ত্যাছে, গোয়াল ঘরে ধুমা দে’ — এই বিশ্বাসের কারণে বউ-ছেলে-মেয়েরা গোয়ালের গরু রক্ষায় মাটির পাত্রে তুষের আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিত। কালের গতিতে সেই বিশ্বাস হারিয়ে গেছে, কিন্তু শকুনের সংখ্যা কমে এসেছে বিলুপ্তির পথে।
শকুন সাধারণত আকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ওড়ে। তাদের মাথা, গলা ও ঘাড়ে কোনো পালক নেই, কিন্তু প্রশস্ত ডানায় ভর করে তারা আকাশের অনেক উপরে উড়ে বেড়ায়। অতীতে মরা প্রাণীর মাংস খেয়ে জীবনধারণ করা এই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন পাখিরা এখন বিলুপ্তির পথে। কামারখন্দ উপজেলার বয়োবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন (১০৪) বলেন, ‘শকুন অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর চারিদিকে শিকারী পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে প্রাণিটি মরার পর্যন্ত অপেক্ষা করে। চক্রাকারে ঘোরা এই পাখির কোনোটিকে মাটিতে নামতে দেখলে অন্যগুলো তাকে অনুসরণ করে হামলে পড়ত।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়, কিন্তু বাংলাদেশে এখন মাত্র ৫ প্রজাতির শকুন দেখা যায় — বাংলা শকুন, সরুর ঠোঁটিশকুন, রাজশকুন, কালোশকুন ও হিমালয়ান শকুন। এছাড়াও, ২ প্রজাতির অতিথি পাখি হিসেবে হিমালয়ান শকুন ও ইউরেশীয় শকুন বাংলাদেশে আসে।
শকুন একমাত্র প্রাণী যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণি খেয়ে হজম করতে পারে। মানুষের পক্ষে যাকিছু ক্ষতিকর সেসব আবর্জনাই খেয়ে তারা পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। ডা. লিন্ডসে’র গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, শকুন অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা ও খুরারোগের সংক্রমণ থেকে অবশিষ্ট জীবকুলকে রক্ষা করে। কিন্তু শকুনের দল মাটিতে পড়ে তখনই শুরু হয় তাদের উপর অত্যাচার — কেউ ঢিল ছুড়ে, কেউ দড়ির ফাঁদ তৈরি করে বেঁধে রাখে, আবার কেউ পা ভেঙে দেয় বা পিটিয়ে হত্যা করে।
"গ্রামবাংলার পরিবেশ রক্ষায় শকুন বাঁচিয়ে রাখা সবারই দায়িত্ব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কামারখন্দ উপজেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জসিম উদ্দিন (১০৪), ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক, ডা. লিন্ডসে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ প্রজাতি (বাংলাদেশে), ১৮ প্রজাতি (বিশ্বে), ২ প্রজাতি (অতিথি পাখি), ১০৪ বছর (জসিম উদ্দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!