📌 যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথ ভেলাস্কেজ (৩৭) জন্মগত রোগের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে পড়েন। 'পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত নারী' শিরোনামে ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়া অপমানের মুখোমুখি হলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী লেখিকা ও মোটিভেশনাল স্পিকার হয়ে ওঠেন। তাঁর জীবন সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে জন্মগ্রহণকারী এলিজাবেথ অ্যান ভেলাস্কেজ (৩৭) জন্মগত রোগের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে পড়েন। 'পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত নারী' শিরোনামে ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁর ছবি নিয়ে হাজার হাজার অপমানজনক মন্তব্য জমে গেলে মাত্র ১৭ বছর বয়সী তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পরিবর্তে আত্মবিশ্বাসের পথে অগ্রসর হন। আজ তিনি একজন লেখিকা, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৯ সালের ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে জন্মগ্রহণকারী এলিজাবেথ ভেলাস্কেজ জন্মগত রোগ নিয়নেটাল প্রোজেরয়েড সিনড্রোম আক্রান্ত ছিলেন, যার কারণে তাঁর শরীরে স্বাভাবিকভাবে চর্বি জমে না। জন্মের সময় তাঁর ওজন ছিল মাত্র ১.২ কেজি।
- 📌 ২০০৬ সালে ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে 'পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত নারী' বলে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওতে তাঁর ছবি নিয়ে হাজার হাজার অপমানজনক মন্তব্য জমে গেলে মাত্র ১৭ বছর বয়সী তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পরিবর্তে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করেন।
- 📌 ২০১৩ সালে টেড এক্স বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'নিজের পরিচয় নির্ধারণ করতে হবে নিজের লক্ষ্য ও কাজের মধ্য দিয়ে, না অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে'। বক্তৃতাটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং তিনি সাইবার বুলিংবিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন।
- 📌 ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ক্যালরি খেতে হয় প্রতিদিন তাঁর শরীরের প্রয়োজন মেটাতে। ডান চোখে তিনি দেখতে পান না, অন্য চোখেও দৃষ্টিশক্তি সীমিত।
- 📌 লিজি বিউটিফুল, চুজিং হ্যাপিনেস, বি বিউটিফুল বি ইউ ও ডেয়ার টু বি কাইন্ড — তাঁর লেখা বইগুলিতে আত্মমর্যাদা, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা এবং সহমর্মিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 ২০১৫ সালে মুক্তি পায় তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র আ ব্রেভ হার্ট: দ্য লিজি ভেলাস্কেজ স্টোরি। এতে তাঁর জীবনের সংগ্রাম এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
এলিজাবেথ ভেলাস্কেজের জীবন একটি অসাধারণ সংগ্রামের গল্প। জন্মের সময় তাঁর ওজন ছিল মাত্র ১.২ কেজি, এবং তিনি আক্রান্ত ছিলেন নিয়নেটাল প্রোজেরয়েড সিনড্রোম নামে একটি বিরল জিনগত রোগে। এই রোগের কারণে তাঁর শরীরে স্বাভাবিকভাবে চর্বি জমে না, ফলে তিনি প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ক্যালরি খেতে হয়। এছাড়াও, তাঁর ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই, অন্য চোখেও সীমিত।
২০০৬ সালে ইউটিউবে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে 'দ্য ওয়ার্লডস আগলিয়েস্ট উয়োম্যান' শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়। ভিডিওতে তাঁর ছবি নিয়ে হাজার হাজার অপমানজনক মন্তব্য জমে যায়। কেউ তাঁর চেহারা নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন, কেউ লিখছিলেন তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। এমনকি তাঁর বাবা-মাকে দোষারোপ করা হয়েছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারত, কিন্তু তিনি বেছে নেন অন্য পথ।
তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তাঁর টেড এক্স বক্তৃতা হাউ ডু ইউ ডিফাইন ইয়োরসেলফ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'নিজের পরিচয় নির্ধারণ করতে হবে নিজের লক্ষ্য ও কাজের মধ্য দিয়ে, না অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে'। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, নিজের সীমাবদ্ধতা কিংবা অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে নিজেকে বিচার করা উচিত নয়। বরং নিজের লক্ষ্য ও কাজের মধ্য দিয়ে পরিচয় তৈরি করতে হবে।
"মানুষ আমাকে কীভাবে দেখে, সেটি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু নিজের জীবনকে কীভাবে দেখবেন এবং কীভাবে এগিয়ে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত আমার নিজের।"
এরপর থেকে এলিজাবেথ হয়ে ওঠেন সাইবার বুলিংবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে তিনি তরুণদের সাহস জোগান দেন। বিশেষ করে অনলাইনে কাউকে চেহারা, শারীরিক গঠন বা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে অপমান না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেন। তিনি একাধিক বই লিখেছেন, যার মধ্যে লিজি বিউটিফুল, চুজিং হ্যাপিনেস, বি বিউটিফুল বি ইউ ও ডেয়ার টু বি কাইন্ড উল্লেখযোগ্য। তাঁর বইগুলোতে আত্মমর্যাদা, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা, সহমর্মিতা ও নিজের প্রতি ভালোবাসার কথা উঠে এসেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলিজাবেথ অ্যান ভেলাস্কেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর (বয়স), ১.২ কেজি (জন্ম ওজন), ৫-৮ হাজার ক্যালরি (দৈনিক খাদ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!