📌 যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ গবেষণা প্রকাশ করেছে যে স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়ি থেকে রান্নার সময় খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশে যেতে পারে। বিশেষত নতুন হাঁড়িতে এই ঝুঁকি সর্বোচ্চ এবং স্টিলের তারের জালি দিয়ে মাজলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এমন সিসা খাবারে মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০ থেকে ৪২ গুণ পর্যন্ত হতে পারে
বাংলাদেশে দৈনন্দিন জীবনে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলের ব্যবহার খুবই সাধারণ। এসব পাত্রে ভাত রান্না, ডাল বসানো বা খিচুড়ি তৈরি করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি)-এর যৌথ গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, স্থানীয়ভাবে তৈরি এই হাঁড়ি থেকে রান্নার সময় খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশতে পারে। বিশেষত নতুন হাঁড়িতে এই ঝুঁকি সর্বোচ্চ এবং স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি মাজলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এমন বিষাক্ত ধাতু সিসা খাবারে মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০ থেকে ৪২ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকাশ করেছে যে স্থানীয় অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়ি থেকে রান্নার সময় খাবারে সিসা মিশে যেতে পারে।
- 📌 নতুন হাঁড়িতে সিসা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি সর্বোচ্চ এবং স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি মাজলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০ থেকে ৪২ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে যে ভাত ও খিচুড়ি রান্না করার সময় সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০৫ থেকে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
- 📌 গবেষণাপত্রের নাম ‘টক্সিক কুকওয়্যার: লেড এক্সপোজার ফ্রম অ্যালুমিনিয়াম পটস ইন বাংলাদেশ’। এটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি সাময়িকীতে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর।
- 📌 গবেষণায় অংশ নিয়েছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাফায়েল কিম, আলিরেজা নামায়ানদেহ, হান্নাহ ম্যাকগোরান, আলান্দ্রা লোপেজ, জেসমিন সুলতানা, মুসা বাকের, মাহবুবুর রহমান, স্টিফেন পি লুবি, স্কট ফেনডর্ফ ও জেনা ই ফোরসাইথ।
- 📌 বাংলাদেশ থেকে গবেষণায় অংশ নিয়েছেন আইসিডিডিআর,বি’র পরিবেশ স্বাস্থ্য ও ওয়াশ বিভাগের গবেষকরা। গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন জেনা ফোরসাইথ, যিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’ কর্মসূচির পরিচালক।
📰 বিস্তারিত
গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি থেকে রান্নার সময় খাবারে সিসা মিশে যেতে পারে। এই হাঁড়িগুলো সাধারণত স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। গবেষকরা ২০টি নতুন এবং সাতটি পুরোনো হাঁড়ি নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তারা দেখেছেন যে, নতুন হাঁড়িতে সিসা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষত স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি মাজলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০ থেকে ৪২ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভাত ও খিচুড়ি রান্না করার সময় সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ ৩০৫ থেকে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিসা বা লেড একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু। এটি শরীরে জমতে পারে এবং বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। সমস্যা হলো, সিসা মিশে যাওয়া খাবার দেখতে অন্য খাবারের মতোই। এর কোনো আলাদা রং, গন্ধ বা স্বাদ নেই। তাই শুধু চোখে দেখে কিংবা খাবার খেয়ে বোঝার উপায় নেই, তাতে সিসা মিশেছে কি না।
গবেষণায় অংশ নিয়েছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণাকেন্দ্রের গবেষকরা। বাংলাদেশ থেকে গবেষণায় অংশ নিয়েছেন আইসিডিডিআর,বি’র পরিবেশ স্বাস্থ্য ও ওয়াশ বিভাগের গবেষকরা। গবেষণাটির পরিকল্পনা, পরীক্ষার নকশা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন জেনা ফোরসাইথ। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’ কর্মসূচির পরিচালক। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি সাময়িকীতে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর।
"অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি থেকে সিসা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নতুন হাঁড়িতে। স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি মাজলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এটি শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাফায়েল কিম, আলিরেজা নামায়ানদেহ, জেনা ই ফোরসাইথ, জেসমিন সুলতানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০টি নতুন হাঁড়ি, ৭টি পুরোনো হাঁড়ি, ৩০৫-৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা, ৩০-৪২ গুণ বেড়ে যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!