📌 আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ও পুরনো পাত্র উভয় থেকেই সিসা নির্গত হচ্ছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই
বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশছে — এমন সত্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা। আইসিডিআরবি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ও পুরনো পাত্র উভয় থেকেই সিসা নির্গত হচ্ছে, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় পরীক্ষিত প্রতিটি পাত্র থেকেই খাবারে সিসা মিশেছে, বিশেষ করে প্রথম ব্যবহারে পরিমাণ বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গবেষণায় পরীক্ষিত ২০টি নতুন ও ৭টি পুরনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশেছে — নতুন পাত্রে প্রতি কেজি ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম ও খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে।
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, রক্তে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।
- 📌 চট্টগ্রাম অঞ্চল বাংলাদেশের অ্যালুমিনিয়াম কুকওয়্যার তৈরির প্রধান কেন্দ্র, কিন্তু কারখানাগুলোতে মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।
- 📌 বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) স্বীকার করেছে, উৎপাদকরা নিজেরা কাঁচামালের মান যাচাই করেন না।
- 📌 নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে মান নির্ধারণের কাজ চলমান, কিন্তু বাজারে পণ্যের মান যাচাইয়ের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেই।
- 📌 চট্টগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ স্বীকার করেছেন, পুরো শিল্পের সমস্যা হলো মান যাচাইয়ের অভাব।
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইসিডিআরবি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্রের প্রথম ব্যবহারে প্রতি কেজি ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম ও খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা মিশে যাচ্ছে। পুরনো পাত্রের ক্ষেত্রে সিসার পরিমাণ কম হলেও তা নিরাপদ নয়। গবেষণায় পরীক্ষিত ৩৯টি পাত্রের সবকটিই সিসা নির্গত করেছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের মান নির্ধারণের কাজ চলমান, তবে বাজারে পণ্যের মান যাচাইয়ের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেছেন, সিসা মিশে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অ্যালুমিনিয়াম পাত্র ব্যবহার না করার সচেতনতা প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে দেশের গৃহস্থালি থেকে শুরু করে খাবারের দোকান পর্যন্ত এ পাত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ স্বীকার করেছেন, কারখানাগুলোতে মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘এটি পুরো শিল্পের সমস্যা। সরকারসহ সবাই মিলে কাজ করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ সমিতির সাবেক সভাপতি একরামুল হক বলেছেন, কিছু বড় প্রতিষ্ঠান মান যাচাই করে থাকে, কিন্তু ছোটো প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজের ক্ষতিকর স্ক্র্যাপ ব্যবহার করে এবং কোনো মেইনটেন্যান্স করে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রগুলো প্রায়শই পুরনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। এসব ধাতু ঠিকভাবে পরীক্ষা না করলে তৈরি পাত্রে সিসা থেকে যেতে পারে। গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার-এর জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি-তে।
"স্থানীয়ভাবে তৈরি অনেক অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পুরনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। এসব ধাতু ঠিকভাবে পরীক্ষা না করলে তৈরি পাত্রে সিসা থেকে যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (অ্যালুমিনিয়াম শিল্প কেন্দ্র), বাংলাদেশ (গবেষণা এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শফিকুল ইসলাম (নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান), হারুনুর রশিদ (চট্টগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম (নতুন পাত্রে ভাতের সিসা), ৪২০ মাইক্রোগ্রাম (নতুন পাত্রে খিচুড়ির সিসা), ২০টি (নতুন পাত্র পরীক্ষা), ৭টি (পুরনো পাত্র পরীক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!