📌 জাপানি অনুবাদক কিওকো নিওয়ার 'আমার দেখা শামসুর রাহমান' লেখায় কবির জীবন ও সাহিত্যকে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। কলকাতায় প্রথম শামসুর রাহমানের কবিতা পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে ঢাকায় তাঁর সাক্ষাত্কারের বিস্তারিত বিবরণ এখানে পড়ুন
জাপানি অনুবাদক কিওকো নিওয়ারের লেখা ‘আমার দেখা শামসুর রাহমান’ বাংলা সাহিত্যের জগতে একটি অনন্য স্থান দখল করেছে। এই লেখায় তিনি কবি শামসুর রাহমানের জীবন, সাহিত্য ও তাঁর প্রতি নিজের গভীর অনুভূতিকে স্মৃতিচিহ্নে রূপ দিয়েছেন। প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এই লেখায় কিওকো নিওয়ার কলকাতায় প্রথম শামসুর রাহমানের কবিতা পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে ঢাকায় তাঁর সাক্ষাত্কারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৯৩ সালে কলকাতায়** কিওকো নিওয়ার প্রথমবারের মতো শামসুর রাহমানের ‘হরিণের হাড়’ কাব্যগ্রন্থ পড়েন এবং তা তাঁর মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- 📌 **জাপানে বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে** কিওকো নিওয়ারের জীবনে শামসুর রাহমানের ‘শ্রোতা’ কবিতাটি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে, যা তাঁকে অনুবাদ ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করে।
- 📌 **২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায়** জাপান ফাউন্ডেশনের কাজে আসা কিওকো নিওয়ার শামসুর রাহমানের সাথে সাক্ষাত করেন, যেটি তাঁর জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।
- 📌 **কবির অসাধারণ শক্তি** সাক্ষাত্কারের সময় আবির্ভূত হয়, যখন তিনি নিজের বয়সের কথা ভুলে গিয়ে কবিতা লেখার কাহিনি শোনান।
- 📌 **শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা ‘১৯৪৯’** প্রকাশের কাহিনি কিওকো নিওয়ারকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে, যেখানে কবি নিজের ভয়ে ভয়ে পত্রিকা অফিসে গিয়ে কবিতাটি জমা দেন।
📰 বিস্তারিত
কিওকো নিওয়ারের লেখা ‘আমার দেখা শামসুর রাহমান’ বাংলা সাহিত্যের জাপানি অনুবাদক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার একটি গভীর প্রতিফলন। লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৩ সালের কলকাতায় থেকেই তাঁর বাংলা সাহিত্যে আগ্রহ জন্মে। প্রথমবারের মতো শামসুর রাহমানের ‘হরিণের হাড়’ কাব্যগ্রন্থ পড়ার সময় তিনি অনুভব করেন যে, কবিতাগুলো তাঁর মনের ভেতরে ঢুকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই বইটিই তাঁর কাছে বাংলা সাহিত্যের প্রবেশদ্বার হয়ে দাঁড়ায়।
জাপানে বাংলা সাহিত্যের বিস্তার ও পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টায় কিওকো নিওয়ার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছেন। তবে নিজের বিশ্বাসের ওপর কিছু অনুবাদ করার পর বিশেষ প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তিনি হতাশা ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি পান। সেই সময় ‘শ্রোতা’ কবিতাটি তাঁর মনে পড়ে যায়, যেখানে একজন লোক তার কথা বলতে না পেরে বনের ভেতরে চলে যায় এবং ‘গাছ, পাখি, নির্জনতা আর বাংলা লিরিকের মত চাঁদ’ তাঁর শ্রোতা হয়। এই কবিতাটি তাঁকে অনুপ্রাণিত করে এবং তিনি শামসুর রাহমানের সাক্ষাত্কার নেওয়ার সম্ভাবনা দেখে উত্তেজিত হন।
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাপান ফাউন্ডেশনের কাজে ঢাকায় আসা কিওকো নিওয়ার শামসুর রাহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। বিখ্যাত প্রকাশক মফিদুল হক তাঁকে কবির বাড়িতে নিয়ে যান। সাক্ষাত্কারের সময় কিওকো নিওয়ার দেখেন যে, শামসুর রাহমানের বয়স তাঁর নিজের বাবার মতো। তবে তাঁর হাত কাঁপছিল যখন নিজের বইয়ে নাম সই করতে গিয়েছিলেন। সাক্ষাত্কারের সময় কবির অসাধারণ শক্তি আবির্ভূত হয়, যখন তিনি নিজের বয়সের কথা ভুলে গিয়ে কবিতা লেখার কাহিনি শোনান। তিনি বলেন, ‘প্রথম কবিতা নিয়ে পত্রিকা অফিসে যাওয়ার সময় আমার ভয় করছিল। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কবিতাটি তাঁর হাতে দিলে তিনি আমাকে বসতে বললেন এবং বললেন, ‘সামনের সপ্তাহেই এটা ছাপা হবে’।
"আমি দেখলাম, ভদ্রলোক বসে আছেন, খুবই সুদর্শন দেখতে। অন্য আরও অনেকে সেখানে আছেন। নিচে প্রেস। অনেকটা কাঁচা–পাকা বড় চুল। খদ্দরের হাতকাটা জামা তার পরনে ছিল। আমি দাঁড়িয়ে আছি। সামনে চেয়ার আছে, তবে তিনি আমাকে বসতে বললেন না। আমি ভয়ে ভয়ে কবিতাটা তাঁর হাতে দিলাম। তিনি যে খুব একটা গ্রাহ্য করলেন, তা নয়। টেবিলের ওপর সেটা রেখে দিলেন। একটু পরে আমার লেখাটার দিকে তিনি দৃষ্টি দিলেন এবং হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন। খানিকটা পড়ে আমার দিকে না তাকিয়ে ইশারা করে তিনি আমাকে বসতে বললেন। আমি তখন ভরসা পেয়ে বসলাম। তিনি কবিতাটা পড়ে বললেন, সামনের সপ্তাহেই এটা ছাপা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ঢাকা, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিওকো নিওয়ার, শামসুর রাহমান, মফিদুল হক
- 📖 উল্লেখযোগ্য বই: ‘হরিণের হাড়’, ‘শ্রোতা’ কবিতা
- 📅 উল্লেখযোগ্য তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০০৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!