📌 ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের কাগজে-কলমে প্রস্তুতি ভালো হলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকার সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করায় পরিকল্পনা কার্যকর হয় না। সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞও জোর দেন মানুষের প্রয়োজন ও প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উপর
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাগজে-কলমে প্রস্তুতি ভালো হলেও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনা যথাযথভাবে সরকারি কাজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু প্রস্তুতি কাগজে ভালো, বাস্তবে ঘাটতি: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনুন নিশাত বলেন, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করায় পরিকল্পনা কার্যকর হয় না।
- 📌 দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট: শুধু ট্যাংক বসানো যথেষ্ট নয়, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- 📌 ৩০-৪০ বছর পরের পরিস্থিতি মডেল করতে হবে: অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাবকে এখনই মূল্যায়ন করতে হবে।
- 📌 বিদেশি সংস্থার প্রভাব: আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে বিদেশি সংস্থা সন্দেহ প্রকাশ করে এবং তাদের অর্থায়িত নথি বাস্তবে কার্যকর হয় না।
- 📌 মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাগজে পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: নীতির প্রভাব, বাস্তবায়নকারী, অর্থায়ন ও জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম বিবেচনা করতে হবে বলে জোর দেন অস্ট্রেলিয়ার শামারুহ মির্জা।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির মেমোরিয়াল রিসার্চ সিম্পোজিয়াম-২০২৬’-এ আইনুন নিশাত ‘ক্লাইমেট অ্যাডাপশন, নলেজ অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল কনস্ট্রেইনস’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাগজে-কলমে প্রস্তুতি ভালো হলেও বাস্তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনুন নিশাত একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা না পাওয়ায় একটি কাজের বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপদ পানির সংকটের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, শুধু পানির ট্যাংক বসানো যথেষ্ট নয়। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও ব্যবহার বিবেচনা না করলে সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে’।
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের জন্য প্রস্তুতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বা উপকূলীয় এলাকার জন্য একই হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করা যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ বছর পরের পরিস্থিতি মডেল করে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ, আজকের তরুণরা ভবিষ্যতে এই প্রভাব বেশি ভোগ করবেন।
আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত চিন্তাভাবনা অনেকাংশে বিদেশি সংস্থা ও সংগঠনের প্রভাবিত। তিনি উল্লেখ করেন, এসব সংস্থার ধারণা হলো বাংলাদেশের সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা নেই। তারা অর্থ নিয়ে আসে এবং সেই অর্থের ভিত্তিতে নথি তৈরি করা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো কার্যকর হয় না। তিনি বলেন, ‘সেলফে সুন্দর ধুলা খায়’ এই নথিগুলো।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নমেন্ট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড এইজড কেয়ারের সিনিয়র রেগুলেটরি স্পেশালিস্ট শামারুহ মির্জা অনলাইনে যুক্ত হন। তিনি বলেন, নীতির প্রভাব, বাস্তবায়নকারী, অর্থায়ন ও জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম বিবেচনা না করলে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, ‘মানুষের জরুরি প্রয়োজন বুঝতে হবে’।
"আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও স্থানীয় জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বনানী), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনুন নিশাত (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক), শামারুহ মির্জা (অস্ট্রেলিয়া)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০-৪০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!