📌 আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে দেখা যায়, প্লাস্টিকের দখল থেকে পাতা সরিয়ে নেওয়ার ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবিকা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ছে। বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়া পর্যন্ত পাতার ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার থেকে শুরু করে বর্তমানের বন ধ্বংসের ঘটনাগুলোই এই সমস্যার মূল কারণ
আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন লেখক তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেছেন, প্লাস্টিকের দখল থেকে ঝরা পাতা সরিয়ে নেওয়ার ফলে মানবসৃষ্ট পরিবেশগত ধ্বংসের শুরু হয়েছে। ঝরা পাতা, যা আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মূল উৎস ছিল, বর্তমানে প্লাস্টিকের কাছে হারিয়ে ফেলেছে নিজের স্থান। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত ঝরা পাতা খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু বর্তমানে তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাতা থেকে শুরু হলো মানবতার ধ্বংস: ঝরা পাতা থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের দখল পর্যন্ত মানবসৃষ্ট পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে।
- 📌 আদিবাসীদের জীবিকা বিপন্ন: শিমানি আদিবাসীদের মতো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্ভর করে পাতা সংগ্রহে, কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- 📌 বিশ্বের ২৩টি লক্ষ্য অগ্রসর হচ্ছে না: কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্কের ২৩টি বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণে লোকায়ত জ্ঞান ও আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
- 📌 বাংলাদেশের সুন্দরবনে পাতা সংগ্রহ নিষিদ্ধ: ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বন বিভাগ গোলপাতা সংগ্রহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে আদিবাসীরা তাদের জীবিকা হারিয়েছেন।
- 📌 লোকায়ত জ্ঞান অস্বীকারের দাম: পাতার কার্বন সঞ্চয় বা হিউমাস সঞ্চয় নিয়ে আলোচনা করলেও আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও অধিকার সুরক্ষা পায়নি।
📰 বিস্তারিত
আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন লেখক বলেছেন, ঝরা পাতা বহু আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মূল উৎস ছিল। ঝরা পাতা থেকে জ্বালানি, থালা, ঠোঙা বানানো ছাড়াও কৃষিকাজে মালচিং হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত ঝরা পাতা খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গুড়, লবণ, ছোট মাছের মতো সদাই পাতায় মুড়িয়ে খাওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের দখল থেকে ঝরা পাতা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বনজীবীরা বলেছেন, ঝরা পাতায় মেথানি আর নতুন পাতায় মধু। ঝরা পাতা জমে জমে মেথানির স্তূপ তৈরি হয়, আর মেথানিতেই জন্ম হয় চিংড়ির। বনতলের ঝরা পাতার স্তূপ বহু প্রাণের আবাসস্থল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পাতাঝরার বিজ্ঞানকে জখম করা হচ্ছে। পাতার দখল নিয়েই ষাটের দশকে ‘সবুজ বিপ্লবের’ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চলমান প্রাণসংহারী অন্যায্য খাদ্যব্যবস্থা।
আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। শিমানি আদিবাসীদের মতো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্ভর করে পাতা সংগ্রহে, কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিমানি আদিবাসী ইয়েসেনিয়া কারি মায়েরের কথায়, ‘কোম্পানির খনন, বনতল ধ্বংস ও বৃহৎ গবাদিখামারের জন্য প্রাচীন বনগুলো ধ্বংস হচ্ছে। আদিবাসী ও প্রাণবৈচিত্র্যের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
বাংলাদেশের সুন্দরবনে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বন বিভাগ জোর করে গোলপাতা আহরণ নিষিদ্ধ করেছিল। প্রবীণ পাতাকাটনি বাওয়ালিরা বলেছিলেন, নিয়ম মেনে গোলপাতা না কাটলে গাছ মরে যায়। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বন যখন মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল, শেভরন আর ইউনোকলের আগুনে পুড়ে যায়, তখন দগ্ধ বনতল দেখে আদিবাসী খাসি নারীরা চিৎকার করে কেঁদেছিলেন। কারণ, ঝরা পাতার বনতল থেকে তেতস্লাং নামের এক বুনো মাশরুম সংগ্রহ করতেন তারা।
"কোম্পানির খনন, বনতল ধ্বংস ও বৃহৎ গবাদিখামারের জন্য প্রাচীন বনগুলো ধ্বংস হচ্ছে। আদিবাসী ও প্রাণবৈচিত্র্যের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।"
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন পাতার খেলা। বনজীবীরা বলেন, ঝরা পাতায় মেথানি আর নতুন পাতায় মধু। ঝরা পাতা জমে জমে ‘মেথানির স্তূপ’ তৈরি হয়, আর মেথানিতেই জন্ম হয় চিংড়ির। বনতলের ঝরা পাতার স্তূপ বহু প্রাণের আবাসস্থল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পাতাঝরার বিজ্ঞানকে জখম করা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আর্মেনিয়া, বাংলাদেশের সুন্দরবন, মৌলভীবাজার লাউয়াছড়া বন, শিমানি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিমানি আদিবাসী ইয়েসেনিয়া কারি মায়ের, বনজীবীরা, প্রবীণ পাতাকাটনি বাওয়ালিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩টি বৈশ্বিক লক্ষ্য, ১৭তম প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন, ১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!