📌 ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি, উজ্জ্বল গ্রহের মেলা এবং অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দৃশ্য দেখা যাবে। ৯ নভেম্বর অমাবস্যা হওয়ায় চাঁদহীন রাতে ফায়ারবল ও নক্ষত্রমণ্ডল স্পষ্ট দেখা যাবে
১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি, উজ্জ্বল গ্রহের মেলা এবং মহাজাগতিক দৃশ্যের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী চলবে। হেমন্তের শুভ্র আকাশে এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সময়ে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এবং বিভিন্ন গ্রহের দৃশ্য দেখা যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪-৫ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ টাওরিড উল্কাবৃষ্টির শীর্ষ বিন্দু, প্রতি ঘণ্টায় ৫-১০টি উল্কা দেখা যাবে — বেশ বড় ও উজ্জ্বল ফায়ারবলসহ
- 📌 ১১-১২ নভেম্বর রাতে উত্তর টাওরিড উল্কাবৃষ্টির শীর্ষ বিন্দু, চাঁদহীন রাতে ফায়ারবলগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাবে
- 📌 ৯ নভেম্বর অমাবস্যা হওয়ায় চাঁদহীন রাতে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এবং পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল স্পষ্ট দেখা যাবে
- 📌 নভেম্বর মাসের প্রথম পক্ষ জুড়ে শুক্র গ্রহ সূর্যাস্তের ২০-৩০ মিনিট পর পশ্চিম আকাশে স্পষ্ট দেখা যাবে
- 📌 শনি গ্রহ দক্ষিণ আকাশে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাবে, বাইনোকুলার দিয়ে বলয় ও টাইটান উপগ্রহও দেখা যাবে
- 📌 ১৫ নভেম্বর রাত ৯-১০টার মধ্যে বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহ পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে উজ্জ্বলভাবে দেখা যাবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের আকাশে নভেম্বর মাসের প্রথমদিকে টাওরিড উল্কাবৃষ্টির শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৫ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ টাওরিড উল্কাবৃষ্টি এবং ১১ থেকে ১২ নভেম্বর রাতে উত্তর টাওরিড উল্কাবৃষ্টির শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবে। এই উল্কাবৃষ্টিতে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ১০টি উল্কা দেখা যাবে, তবে উল্কাগুলো আকারে বেশ বড় এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল। ফলে ফায়ারবল দেখা যাবে। ৯ নভেম্বর অমাবস্যা হওয়ায় চাঁদহীন রাতে এই ফায়ারবলগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাবে।
নভেম্বর মাসের শুরুতে পুব আকাশে হেমন্ত ও শীতকালীন নক্ষত্রমণ্ডলগুলো প্রস্ফুটিত হতে শুরু করছে। এই সময়ে আমাদের নিকটতম স্পাইরাল গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডা দেখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চাঁদহীন সন্ধ্যার আকাশে বাইনোকুলার দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আবছা আলোর মেঘের মতো দেখা যাবে। পাশাপাশি পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতি এবং উত্তর আকাশে ইংরেজি ডব্লিউ অক্ষরের আকৃতি নিয়ে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডলও স্পষ্ট দেখা যাবে।
নভেম্বর মাসের প্রথম পক্ষে শুক্র গ্রহ সূর্যাস্তের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর গোধূলির আলো হারিয়ে যেতেই পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহের দৃশ্য দেখা যাবে। সন্ধ্যার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শুক্র গ্রহকে খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা যাবে। দক্ষিণ আকাশে শনি গ্রহ নভেম্বর মাসের প্রথম পক্ষে সূর্যাস্তের পরপরই দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে দেখা যাবে। সন্ধ্যার পর গ্রহটি দক্ষিণ আকাশের উচ্চভাগে উঠে এলেও মধ্যরাতের পর পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়বে। শনি গ্রহের বলয় এবং সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান মাঝারি শক্তির বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে।
১৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিগন্তে বৃহস্পতি গ্রহ অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে দেখা যাবে। মধ্যরাতের পর পূর্ব আকাশে মঙ্গল গ্রহেরও দেখা মিলবে। এই সময়ে চাঁদের রূপ পরিবর্তন ঘটছে; মাসের শুরুতে চাঁদ তার শেষ চতুর্থাংশ অতিক্রম করে কৃষ্ণাংশে প্রবেশ করবে। ফলে সন্ধ্যার আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার ও চাঁদের আলোমুক্ত।
"৯ নভেম্বর অমাবস্যা হওয়ায় চাঁদহীন রাতে নক্ষত্র, ছায়াপথ এবং গভীর মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের আকাশ
- 👥 খবরের মুখ্য বিষয়: টাওরিড উল্কাবৃষ্টি, গ্রহের মেলা, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ (নভেম্বর পর্যন্ত), ৪-৫ (নভেম্বর), ১১-১২ (নভেম্বর), ৫-১০ (উল্কা প্রতি ঘণ্টা), ৯ (অমাবস্যা), ২০-৩০ (মিনিট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!