📌 কুয়াকাটার ঝাউবনে দু’ যুগের খোঁজের পর 'বার্ডিংবিডি ট্যুরস’-এর অভিযান দল দেখতে পেলো বিরল ভুজঙ্গ পাখি। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি বিশেষজ্ঞ ডা. আনাম আমিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই বিরল আবিষ্কারটি ঘটে
দু’ যুগের খোঁজের পর কুয়াকাটার ঝাউবনে বাংলাদেশের বিরল ভুজঙ্গ পাখি বা কাকঠুঁটো ফিঙে আবিষ্কৃত হয়েছে। ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’-এর অভিযান দল এই বিরল পাখিটিকে ১৫ অক্টোবর রাতে লক্ষ্য করতে সক্ষম হয়। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি, বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ডা. আনাম আমিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই আবিষ্কারটি ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কুয়াকাটার ঝাউবনে** দু’ যুগের খোঁজের পর বিরল ভুজঙ্গ পাখি বা কাকঠুঁটো ফিঙে (Dicrurus annectens) আবিষ্কৃত হয়েছে।
- 📌 **১৫ অক্টোবর রাতে** ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’-এর ৮ সদস্যের দল পাখিটিকে লক্ষ্য করতে সক্ষম হয়, কিন্তু বাসের দেরি কারণে সকালে খোঁজার সময় নষ্ট হয়ে যায়।
- 📌 **২৭-৩২ সেন্টিমিটার লম্বা** ও **৪৪-৬৮ গ্রাম ওজনের** এই পাখির পালক কালচে, তবে কাঁধ-ঢাকনিতে চকচকে চাকচিক্য কম।
- 📌 **পাখিটি ‘ফুউইইইট্...ফুউইইইট্...’** শব্দে ডাকে এবং মিষ্টি কণ্ঠে ডাকতে পারে।
- 📌 **বাংলাদেশে এ পাখি ‘তথ্য অপ্রতুল’** হিসেবে পরিচিত, তবে পন্থ-পরিযায়ী হিসেবে অক্টোবরে অল্প কয়েক দিনের জন্য এ দেশে আসে বলে ধারণা।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে বিরল ভুজঙ্গ পাখির খোঁজে ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’-এর দল কক্সবাজারের কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবনে অভিযান চালায়। গত কয়েক বছরের রেকর্ড অনুযায়ী, এই বিরল পাখির দেখা মেলার সম্ভাবনা বেশি ছিল। তবে বাসের দেরি কারণে সকালে খোঁজার সময় নষ্ট হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় দল লেম্বুর বনে পৌঁছায়। দুপুরের খাবারের আগে ও পরে দুইবার পাঁচ ঘণ্টা পাখির খোঁজ চালায়, কিন্তু ফলাফল শূন্য। পরদিন সকালে দল ঝাউবনের দোলনা পয়েন্টে নামে এবং বাদাবনের গহিনে ঢুকে পাখির খোঁজ চালায়।
বনে ঢুকেই দল প্রচুর পাখির শব্দ শুনতে পায়। হাঁড়িচাঁচা, বনমালি, হলদে বউ, মাছরাঙা ও কাঠঠোকরা সহ বহু প্রজাতির পাখির মেলা দেখতে পায়। একসময় একটি ফিঙের দলের সঙ্গে বিরল ভুজঙ্গ পাখির দেখা মিলে। দলের সদস্যরা পাখিটিকে লক্ষ্য করে ছবি তুলতে গেলে, পাখিটি পালিয়ে যায়। তবে দলের সদস্যরা তিনটি ছবি তুলতে সক্ষম হয়। এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম **Dicrurus annectens** এবং ইংরেজি নাম **ক্রো-বিল্ড ড্রোঙ্গো**।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি বিশেষজ্ঞ ডা. আনাম আমিনুর রহমান বলেন, এই পাখি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। তবে বাংলাদেশে এটি ‘তথ্য অপ্রতুল’ হিসেবে পরিচিত। পাখিটি সাধারণত একাকী বা জোড়ায় থাকে এবং কীটপতঙ্গ, ব্যাঙ, সরীসৃপ ও ছোট পাখি খায়। এপ্রিল থেকে জুন মাসে এটি প্রজননকালে হিমালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনে বাসা বানায়।
"এ বনের গাছগুলো সরু ও উঁচু, অনেকটা বিদেশি বনের মতো! বনে ঢুকেই প্রচুর পাখির শব্দ শুনলাম। হাঁড়িচাঁচা, বনমালি, হলদে বউ, দুই–তিন প্রজাতির মাছরাঙা, কাঠঠোকরাসহ বহু প্রজাতির পাখির যেন মেলা বসেছে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুয়াকাটা, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. আনাম আমিনুর রহমান (গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), ইকবাল বাবু, ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’ দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭-৩২ সেন্টিমিটার (লম্বা), ৪৪-৬৮ গ্রাম (ওজন), ১৫ অক্টোবর (আবিষ্কার তারিখ), ১০ বারেরও কম (দেশে দেখা রেকর্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!