📌 ইসরাইল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, কিন্তু নেতানিয়াহুর দল আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ দাবি করছে
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছেন। তার দল লিকুদ পার্টি ও ডানপন্থী মিত্ররা দাবি করছে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য আরব দলগুলোর ঘুষ, বিদেশি অর্থায়ন ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট কারচুপি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি — নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে মাত্র ৫৩টি আসন, বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন
- 📌 আরব দলগুলোর ১৯টি আসনের সমর্থন পেলে বিরোধী জোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টি, যা নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার পথ বন্ধ করে দিতে পারে
- 📌 নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোট কারচুপি ঠেকানোর নামে প্রায় দুই হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন
- 📌 ভোটের দিন পুলিশ রা'আম পার্টির তিন কর্মীকে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু আদালত তাদের বেশিরভাগকে মুক্তি দেয়
- 📌 নেতানিয়াহুর দল দাবি করেছে, রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে শত শত সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে
- 📌 কাতার নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে
- 📌 বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে
📰 বিস্তারিত
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট এককভাবে পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে আরব দলগুলোর ১৯টি আসনের সমর্থন পেলে বিরোধী জোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টিতে, যা নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার পথ কঠিন করে তুলবে।
নির্বাচনের পর থেকেই নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, ভোট কেনা এবং বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তুলছেন। এ অভিযোগের লক্ষ্যবস্তু মূলত জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম পার্টি, যারা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর দল দাবি করেছে, রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা এবং জালিয়াতির অভিযোগে শত শত সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, নির্বাচনের ফল পদ্ধতিগতভাবে প্রভাবিত হয়েছে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই নেতানিয়াহু আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোট কারচুপি ঠেকানোর নামে প্রায় দুই হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। ভোটের দিন সকালে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগে রা'আম পার্টির তিন কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচার শিবির এ ঘটনাকে নির্বাচনে জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে প্রচার করে। তবে আদালত পুলিশের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বেশির ভাগ আবেদন নাকচ করে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশিরভাগকে মুক্তি দেয়।
নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান, শিন বেতের প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তা নির্বাচনের ফল বাতিল বা পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার কারণ হবে না। নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। আইজেনকট একে ‘জঘন্য ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশ বিলম্বিত করা এবং নতুন পার্লামেন্টের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন প্রচার চালানো হচ্ছে।
"ভোটের মাধ্যমে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করা এক স্বৈরশাসকের আচরণের মতো।"
বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বলেছেন। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়, যা তার দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকট, ইয়াইর গোলান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (নির্বাচন তারিখ), ১২০ (পার্লামেন্টের আসন), ৬১ (সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন), ৫৩ (লিকুদ জোটের আসন), ৪৮ (বিরোধী জোটের আসন), ১৯ (আরব দলগুলোর আসন), ৬৭ (বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!