📌 যুক্তরাষ্ট্রের এক ১৩ বছরের শিক্ষার্থী লাল হারভেস্টার পিঁপড়াদের পথ খুঁজে বের করার কৌশল নিয়ে গবেষণা করে স্টেম প্রতিযোগিতায় ফাইনালিস্ট হয়েছেন। তাঁর পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিঁপড়ারা শুধু ফেরোমোন নয়, চারপাশের দৃশ্যমান চিহ্নের ওপরও নির্ভর করে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক ১৩ বছরের শিক্ষার্থী তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে লাল হারভেস্টার পিঁপড়ারা শুধু রাসায়নিক চিহ্ন নয়, চারপাশের দৃশ্যমান ল্যান্ডমার্কের ওপরও নির্ভর করে পথ খুঁজে বের করে। তাঁর এই আবিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্টেম প্রতিযোগিতা থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এর ফাইনালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি ভিস্তা মিডল স্কুলের অষ্টম গ্রেডের শিক্ষার্থী সিউংআ চুং লাল হারভেস্টার পিঁপড়াদের পথ খোঁজার কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন।
- 📌 তিনি তাঁর গবেষণায় দেখান যে পিঁপড়ারা শুধু ফেরোমোন নির্ভর নয়, চারপাশের দৃশ্যমান চিহ্ন যেমন প্লাস্টিকের পাতা, সামুদ্রিক পাথর ও রঙিন খেলনা ব্লক দেখেও পথ চিনতে পারে।
- 📌 সিউংআ চুং তাঁর পরীক্ষায় ২০০টি লাল হারভেস্টার পিঁপড়া ও একটি টি-আকৃতির গোলকধাঁধা ব্যবহার করেন।
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, গোলকধাঁধার চিহ্নগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করলে অনেক পিঁপড়া পথ হারিয়ে ফেলে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি ভিস্তা মিডল স্কুলের অষ্টম গ্রেডের শিক্ষার্থী সিউংআ চুং তাঁর সাধারণ পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে পিঁপড়ারা সুন্দরভাবে সারিবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, পিঁপড়ারা কীভাবে পথ খুঁজে বের করে এবং ঘরে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছেন যে পিঁপড়ারা ফেরোমোন নামের রাসায়নিক গন্ধের মাধ্যমে পথ চিনতে পারে। তবে সিউংআ চুং জানতে চেয়েছিলেন, পিঁপড়ারা কি শুধু এই রাসায়নিক নির্ভরতার ওপরই নির্ভর করে, নাকি চারপাশের দৃশ্যমান চিহ্নও তাদের পথ চিনতে সাহায্য করে।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তিনি নিজেই একটি পরীক্ষার পরিকল্পনা করেন। তিনি ২০০টি লাল হারভেস্টার পিঁপড়া সংগ্রহ করেন এবং একটি টি-আকৃতির গোলকধাঁধা তৈরি করেন। গোলকধাঁধার ভেতরে তিনি খাবার হিসেবে এক টুকরা কমলালেবু রাখেন। গোলকধাঁধার পথে তিনি কিছু কৃত্রিম চিহ্ন যেমন প্লাস্টিকের পাতা, সামুদ্রিক পাথর ও রঙিন খেলনা ব্লক স্থাপন করেন। এরপর তিনি প্রতি ১৫টি করে পিঁপড়া গোলকধাঁধায় ছেড়ে দেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন তারা কীভাবে পথ খুঁজে বের করে।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ছিল যখন তিনি গোলকধাঁধার চিহ্নগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করেন। দেখা যায়, অনেক পিঁপড়া তখন পথ হারিয়ে ফেলে, যদিও খাবারটি একই জায়গায় ছিল। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পিঁপড়ারা চারপাশের দৃশ্যমান চিহ্নের ওপরও নির্ভর করে পথ খুঁজে বের করে।
"পিঁপড়াদের এই আচরণ থেকে স্পষ্ট হলো যে তারা শুধু ডানে বা বাঁয়ে মোড় নেওয়ার কথা মনে রাখার বদলে চারপাশের চিহ্নগুলো দেখেই এগোচ্ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিউংআ চুং (১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০টি পিঁপড়া, ১৫টি করে পরীক্ষা, ১৩ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!