📌 পরীক্ষার আগের দিন ইউটিউব আর গেমে কেটে যায় রাত—এমন গড়িমসি কেন হয়? মনোবিজ্ঞানী টিমোথি পিচিলের মতে, এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা। কিশোর আলোর ফারিয়া এজাজ লিখিত প্রতিবেদন।
আগামীকাল পরীক্ষা—বই খুলেছ, কিন্তু হঠাৎ মনে হলো একবার ইউটিউবে ঢুঁ মেরে আসি। শুরু করলে একের পর এক ভিডিও দেখা। এর মধ্যে বন্ধুর মেসেজ—চল গেম খেলি। শুরু করলে গেম খেলা। হুট করে কখন যে রাত হয়ে গেল, টেরই পেলে না। এসব করার পর মনে হয়—ইশ, বিকেলেই যদি পড়তে বসতাম! মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম 'প্রোক্রাস্টিনেশন' বা গড়িমসি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গড়িমসি মানে জরুরি কাজ পিছিয়ে দেওয়া, যদিও কাজটি করার ইচ্ছা থাকে
- 📌 অলসতা আর গড়িমসি এক নয়—অলস মানুষ কাজ করতেই চায় না, গড়িমসি করা মানুষ কাজটি করতে চায়, তবু শুরু করতে পারে না
- 📌 মনোবিজ্ঞানী টিমোথি পিচিলের মতে, গড়িমসি সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়, বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা
- 📌 কারণ: ব্যর্থতার ভয়, নিখুঁত করতে চাওয়া, বড় কাজ পাহাড়সম মনে হওয়া, মোবাইল নোটিফিকেশন, আত্মবিশ্বাসের অভাব
- 📌 সমাধান: ৫ মিনিট শুরু করা, বড় কাজ ছোট ভাগে ভাগ করা, মোবাইল দূরে রাখা, ছোট পুরস্কার দেওয়া
📰 অলসতা আর প্রোক্রাস্টিনেশন এক নয়
শুনতে কাছাকাছি মনে হলেও অলসতা আর প্রোক্রাস্টিনেশন এক জিনিস নয়। অলস মানুষ কাজ করতেই চায় না। কিন্তু যে প্রোক্রাস্টিনেশন করে, সে জানে কাজটি জরুরি। এমনকি কাজটি করতেও চায়। তবু কোনো না কোনো কারণে শুরু করতে পারে না। কাজ যত পেছাতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে চাপ আর দুশ্চিন্তা।
"প্রোক্রাস্টিনেশন আসলে সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়, বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা। কোনো কাজ কঠিন, বিরক্তিকর বা ভয়ের মনে হলে আমরা সেটি এড়িয়ে এমন কিছু করতে চাই, যা সঙ্গে সঙ্গে ভালো লাগা এনে দেয়।" — মনোবিজ্ঞানী টিমোথি পিচিল
🧠 মস্তিষ্ক কেন এমন করে?
সামনে দুটি বিকল্প—একদিকে গণিতের কঠিন অধ্যায় চর্চা করতে হবে, অন্যদিকে মোবাইলে মজার ভিডিও দেখা যাবে। আমাদের মস্তিষ্ক সাধারণত তাৎক্ষণিক আনন্দকেই আগে বেছে নিতে চায়। কারণ, ভবিষ্যতের বড় লাভের চেয়ে বর্তমানের ছোট্ট আনন্দ অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
📌 কাজ ফেলে রাখার কারণ
প্রোক্রাস্টিনেশনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় ব্যর্থতার ভয় আমাদের শুরুই করতে দেয় না। মনে হয়—যদি ভালো না হয় বা ভুল হয়ে যায়! আবার কেউ কেউ সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে চান। সেই চেষ্টায় কাজ শুরু করতেই দেরি হয়ে যায়। বড় কোনো কাজও অনেকের কাছে পাহাড়সম মনে হয়—পুরো বই একসঙ্গে পড়ার কথা ভাবলেই উৎসাহ হারিয়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় মোবাইলের নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টান কিংবা নিজের ওপর আস্থার অভাব।
⚠️ প্রভাব
কাজ ফেলে রাখলে শুরুতে একটু স্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকে না। পরে কাজ জমে যায়, চাপ বাড়ে, ঘুম কমে যায়, অস্থিরতা তৈরি হয়। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে ভুলও বেশি হয়। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ওপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
💡 কীভাবে এই অভ্যাস বদলাবে?
ভালো খবর হলো, এই অভ্যাস বদলানো সম্ভব। শুরুটা হতে পারে খুব ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে। নিজেকে বলো—মাত্র পাঁচ মিনিট পড়বে। অনেক সময় শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ। একবার শুরু করতে পারলে কাজ এগিয়ে নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করাও কার্যকর একটি উপায়। পুরো অধ্যায়ের বদলে প্রথম পাঁচ পৃষ্ঠা পড়ার লক্ষ্য ঠিক করতে পারো। পড়ার সময় মোবাইল দূরে রাখো বা নোটিফিকেশন বন্ধ করে দাও। একটি লক্ষ্য পূরণ হলে নিজেকে ছোট্ট কোনো পুরস্কারও দিতে পারো। আর যদি কোনো দিন সময় নষ্ট হয়, তাহলে নিজেকে দোষারোপ না করে পরের দিন নতুন করে শুরু করো। একটি খারাপ দিন মানেই সব শেষ নয়।
📌 মনে রাখবে
প্রোক্রাস্টিনেশন কোনো চারিত্রিক সমস্যা নয়। এটি এমন একটি অভ্যাস, যা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রবণতা, ভয়, চাপ ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই নিজেকে দোষারোপ না করে ধীরে ধীরে ছোট ছোট পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। হয়তো এ মুহূর্তেও তোমার একটি বাডির কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে—এই লেখা শেষ করেই খাতাটা খুলে বসতে পারো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- ✍️ লেখক: ফারিয়া এজাজ
- 📂 বিভাগ: ফিচার (কিশোর আলো)
- 📚 সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) এবং হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!