📌 সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হয়রানি। নূরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিজের অনিয়ম ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও পুলিশি হয়রানি। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। অভিযোগে নূরুল ইসলামের অনুসারীদের পাশাপাশি নিজেকে পুলিশি হয়রানির শিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জ-৪ এমপি নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। অভিযোগে পুলিশি হয়রানি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 নূরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিজের অনিয়ম ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এলাকাবাসীর অভিযোগে কাজে নানা অনিয়মের কথা জানতে পেরে ঠিকাদারের লোকদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
- 📌 সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলাকাবাসীদের সাথে কাজ পরিদর্শন করেছেন নূরুল ইসলাম। তিনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
- 📌 ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের চারটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও একটি সেতু নির্মাণের কাজে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।
- 📌 ২০ অক্টোবর দুবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা-১ সেতু নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকায় ঠিকাদারের লোকজনকে গালাগাল করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও পুলিশি হয়রানি। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। অভিযোগে তিনি বলেছেন, একজন সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নূরুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারীদের দ্বারা চাঁদা দাবি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হচ্ছেন।
ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। ইসলাম ট্রেডার্স নামে তাঁর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের চারটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক উঁচু করা, পাশে ব্লক বসানো ও গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং একটি সেতু নির্মাণের কাজ করছেন। দুটি প্যাকেজে প্রায় ৯৬ কোটি টাকার কাজ করাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
ঠিকাদার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনে ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ঘটনায় পরদিন সদর থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় শফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে, কিন্তু ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে জামালগঞ্জ উপজেলায় মাছ চুরির মামলায়ও তাঁকে আসামি করা হয়েছে। সদর থানার মামলায় ২১ অক্টোবর রাতে তাঁর সিলেটের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। তখন তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়।
নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সড়ক আমার নির্বাচনী এলাকাসহ তিন উপজেলায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু কাজ শেষের আগেই সড়কের পাশে গাইড ওয়াল ধসে গেছে। মাটি দিয়ে তা ঢেকে রেখেছিলেন ঠিকাদারের লোকজন। এলাকার বহু লোক সেখানে ছিলেন। আমি বলেছি, কোনো অনিয়ম করা যাবে না। এখন নিজের অনিয়ম ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
আজ বেলা ১১টার দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীদের সাথে কাজ পরিদর্শন করেছেন নূরুল ইসলাম। কাজ দেখার পর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘কয়েকটি সেতু ও সড়কের কাজে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সঠিক তদন্তের পরে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
"আমি বলেছি, কোনো অনিয়ম করা যাবে না। এখন নিজের অনিয়ম ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর উপজেলা, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ-৪ এমপি), মো. শফিকুল ইসলাম (ঠিকাদার), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ কোটি টাকা (কাজের ব্যয়), ১ কোটি টাকা (চাঁদা দাবি), ১৭ সেপ্টেম্বর, ২১ অক্টোবর, ২০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!