📌 দেশের ৪৫টি জেলা থেকে প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা থেকে এই কনভেনশনের লক্ষ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়
দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্যের পক্ষে মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় প্রগতিশীল চিন্তার লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন। ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ এই স্লোগান নিয়ে শুরু হয় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। সকাল থেকে সারা দিন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের ৪৫টি জেলা থেকে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেশ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪৫টি জেলা থেকে ৩১টি সংগঠনের প্রতিনিধি** অংশগ্রহণ করে কনভেনশনে; রাজধানীর প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও শ্রমজীবী সংগঠনের নেতারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
- 📌 **২০২৩ সালের ৬ মে** ফ্যাসিবাদী সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা থেকে এই কনভেনশন আয়োজিত হয়েছে
- 📌 **২০২৪ সালের ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে** সাংস্কৃতিক কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী গানের মিছিল করে
- 📌 **৩০ জুলাই ও ২ আগস্ট** রাজপথ দখল করে গানে গানে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া হয়
- 📌 **সভাপতি জামসেদ আনোয়ার** বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনেও সামাজিক বৈষম্য ও ধর্মীয় উগ্রবাদ অব্যাহত; সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য ঐক্যের প্রয়োজন
- 📌 **উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে** শিল্পী মাইশা সুলতানা হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ‘শঙ্খচিল’ পরিবেশন করেন; দীপক সুমন আবৃত্তি করেন
- 📌 **খাগড়াছড়ির জুম্ম জনগোষ্ঠীর** সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে
📰 বিস্তারিত
‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ এই স্লোগান নিয়ে শুরু হয় এই কনভেনশনের আনুষ্ঠানিকতা। সকালে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনের লবিতে সমবেত কণ্ঠে ‘এসো মুক্ত করো’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ ও ‘দুর্গমগিরি’ এই তিনটি সংগীত পরিবেশন করা হয়। উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবির। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলো রাজনৈতিক আন্দোলনের পাটাতন। বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা এগিয়ে নিতে এই কনভেনশন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
উদ্বোধনী অধিবেশনে শিল্পী মাইশা সুলতানা একক কণ্ঠে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের বিখ্যাত গণসংগীত ‘শঙ্খচিল’ পরিবেশন করেন। আবৃত্তি করেন দীপক সুমন। খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ জুম্ম জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি অবলম্বনে বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। সভাপতি ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার প্রবর্তিত নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ মে রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। এরপর ২০২৪ সালের ২০ জুলাই কারফিউ জারি করা হলে সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রথম কারফিউ ভেঙে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ ও গানের মিছিল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই গানে গানে প্রতিবাদী শিল্পীরা রাজপথ দখল করেন। ২ আগস্ট দ্রোহযাত্রা চালিয়ে যাওয়া হয়।”
জামসেদ আনোয়ার আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য অক্ষুণ্ন আছে। দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে মাজার, ভাস্কর্য ভাঙা, মব-সন্ত্রাস, কবিগান, বাউলগান, যাত্রাপালা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ধর্মীয় উগ্রবাদীদের যেভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রয়েছে। তারা স্বাধীন মতপ্রকাশ, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপর সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করছে। এই পরিস্থিতিতে গণমানুষের পক্ষে সৃজনশীলতার চর্চা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য ব্যাপক ঐক্যের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে এই কনভেনশন আয়োজন করা হয়েছে।”
বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবির বলেন, “সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সারা দেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাটাতনে রাজনৈতিক সংগ্রাম অভীষ্ট লক্ষ্যের অভিমুখে নিয়ে যেতে হবে। ইতিহাসকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এটা করা যায়নি বলেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। একই কারণে নব্বই ও উনসত্তরের অভ্যুত্থানেরও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা যায়নি। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে সারা দেশে সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান।
"সাংস্কৃতিক লড়াই সব লড়াইয়ের ভিত্তি। বৈষম্যবাদী চিন্তা, উগ্রধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িক চিন্তা এসবের নিজস্ব শক্তি আছে। সমাজের ভেতর থেকেই এসব গড়া হয়। সাংস্কৃতিক লড়াই ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় নাট্যশালা, শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামসেদ আনোয়ার, নূরুল কবির, মাইশা সুলতানা, দীপক সুমন, হেমাঙ্গ বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫টি জেলা, ৩১টি সংগঠন, ৬ মে ২০২৩, ২০ জুলাই ২০২৪, ৩০ জুলাই ২০২৪, ২ আগস্ট ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!