📌 বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বলা হয়, তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফয়জুল হাকিম বলেন, বদরুদ্দীন উমর লুণ্ঠনজীবী শ্রেণির শাসন ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন
বদরুদ্দীন উমর তাঁর লেখায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রতন্ত্রের উদ্ভব ও শাসকশ্রেণির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে গেছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের বয়ান ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে এবং ঘুষ-দুর্নীতি থেকে শাসনক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগের শ্রেণি।
- 📌 জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন, বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ যিনি সর্বহারা বিপ্লবের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকার ও বিরোধী দল মূলত লুণ্ঠনজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি। তাদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
- 📌 ফয়জুল হাকিম মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের অবস্থান কোথায় ছিল?
- 📌 আলোচনায় অংশ নেন লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ।
📰 বিস্তারিত
বদরুদ্দীন উমর তাঁর লেখায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রতন্ত্রের উদ্ভব ও শাসকশ্রেণির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের বয়ান ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন। সভায় ফয়জুল হাকিম বলেন, বদরুদ্দীন উমর কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, সেই কাজের পূর্ণতা দিতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের শ্রেণি শিল্প, উৎপাদন বা কৃষি কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিল না। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাচালান ও লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই শ্রেণি দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল। ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকার ও বিরোধী দল মূলত এই লুণ্ঠনজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি। তাদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে শাসকশ্রেণি। তিনি উল্লেখ করেছেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের অবস্থান কোথায় ছিল। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী কোনো যুদ্ধজোটে বাংলাদেশ যাবে না। এটা পরিষ্কার কথা।
"বদরুদ্দীন উমর কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ, এ দেশের সর্বশ্রেণির একজন প্রতিনিধি। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, সেই বিপ্লবের জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়জুল হাকিম, বদরুদ্দীন উমর, পাভেল চৌধুরী, আবদুল হাকিম, মিনহাজ আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!