📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা দাবি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীকে বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিপীড়ন ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর সাল পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসের উপর আলোচনা হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্বে রক্ষীবাহিনী ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার এই জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা দাবি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৭২ সালের পর থেকে** আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিপীড়ন ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 **মহিউদ্দিন আহমদ** বলেছেন, ‘৭৫ সালের শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চলা রক্ষীবাহিনীর শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অস্বীকার করা হয়।’
- 📌 **জাসদের নেতা-কর্মীরা** ছিল রক্ষীবাহিনীর নিপীড়নের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।
- 📌 **নূর খান লিটন** উল্লেখ করেছেন, রক্ষীবাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মের মিল ছিল, যা জনগণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করত।
- 📌 **সহুল আহমদ** বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ট্রুথ কমিশন গঠন জরুরি।
- 📌 **জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ** বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা হয়েছিল এবং রক্ষীবাহিনী গঠন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সেমিনারের প্রধান বক্তা লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘৭৫ সালের শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চলা রক্ষীবাহিনীর শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অস্বীকার করা হয়।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। আমির হোসেন আমু যখন হিন্দুদের জমি দখল করেছিল, রক্ষীবাহিনী সেই জমি উদ্ধার করতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু একই রক্ষীবাহিনীকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিপীড়ন করতে ব্যবহার করা হয়েছিল।’
মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেছেন, ‘রক্ষীবাহিনী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নির্যাতন চালাত। জাসদসহ বিরোধী দলের বিস্তার থাকা এলাকায় রক্ষীবাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘রক্ষীবাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মের মিল ছিল, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করত।’
সহুল আহমদ বলেছেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি ট্রুথ কমিশন গঠন জরুরি। বাহাত্তর সাল থেকে চলা এই হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস জানতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘রক্ষীবাহিনী থেকে শুরু করে বর্তমান বাহিনীগুলোও অস্ত্র উদ্ধার ও আত্মরক্ষার নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একই স্ক্রিপ্ট জনগণের সামনে আনে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রক্ষীবাহিনী গঠন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করা হয়েছিল। আমরা এই আলোচনা জারি রাখতে চাই।’
"পঁচাত্তরের পর রক্ষীবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনা উচিত ছিল। কিন্তু সবাই তাদের নিয়ে রাজনীতি করলেও কেউ বিচারের কথা বলেনি।" — মহিউদ্দিন আহমদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহিউদ্দিন আহমদ, নূর খান লিটন, সহুল আহমদ, এহ্সান মাহমুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ নভেম্বর (২০২৬), ১৬ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!