📌 টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও অভিজাততন্ত্রের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব বিকাশ ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। গবেষণায় ৭টি দলের সংবিধান-বিরোধী গঠনতন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও অভিজাততন্ত্রের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব বিকাশ ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে কোনো পরিবর্তন আসেনি
- 📌 ৭টি রাজনৈতিক দলের সংবিধান-বিরোধী গঠনতন্ত্রের বিষয়টি গবেষণায় উঠে এসেছে
- 📌 ১০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে
📰 বিস্তারিত
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে আজ রোববার ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কোনো অবসান হয়নি। তিনি বলেন, “তৃণমূলের অংশগ্রহণ ও নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তির ঘাটতির কারণে রাজনৈতিক দলগুলোতে পরিবারতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিযোগিতায় এ প্রবণতা দৃশ্যমান। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ ধরনের রাজনীতির অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও নিয়মিত বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।”
গবেষণায় সাতটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সংবিধানের সাংঘর্ষিক অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই দলগুলো হলো—জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বিএনএল। গবেষণার জন্য ১০টি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ রয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তাঁরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দলগুলো সাড়া দেয়নি।
প্রার্থী মনোনয়ন বাণিজ্য ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল পর্যায়েও একজন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উদ্বেগজনক। অর্থের উৎস এবং কারা অর্থায়ন করছেন, তা জানার সুযোগ খুবই সীমিত। অধিকাংশ লেনদেন অপ্রকাশ্যে হওয়ায় অর্থের বৈধতা ও প্রকৃত উৎস যাচাই করা কঠিন।”
"রাজনৈতিক দল পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা নয়, বরং অর্থের উৎস ও সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং বৈধতার আওতায় আনা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ঢাকা, ধানমন্ডি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি দলের সংবিধান-বিরোধী গঠনতন্ত্র; ১০টি দল তথ্য দিতে অস্বীকার; ৫০ কোটি টাকা (প্রার্থী মনোনয়নের ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!