📌 বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মূল্য রক্ষার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্ধকারে পড়া বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে উজ্জ্বল করার জন্য সত্য কথা বলতে হবে। সৌদি আরবের সংস্কৃতির উন্নতির সাথে তুলনা করে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মূল্য রক্ষার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ যদি বৃথা যায়, তাহলে পূর্বপুরুষরা আমাদের অভিশাপ দেবেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’ উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুক্তিযুদ্ধের মূল্য রক্ষা: ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ যদি বৃথা যায়, পূর্বপুরুষরা অভিশাপ দেবেন।
- 📌 বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবনতি: তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলার সংস্কৃতি অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, নদী-নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা সভ্যতা ধ্বংসের মুখে।
- 📌 সৌদি আরবের সংস্কৃতির উন্নতি: সৌদি আরবে নারীরা আজ গাড়ি চালাচ্ছেন, খেলাধুলা করছেন, কিন্তু বাংলাদেশে সংস্কৃতির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 কবীর-লালন উৎসবের উদ্বোধন: ফকির লালন শাহের বাণী ‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা’ শিরোনামে শুরু হয়েছে আট বিভাগব্যাপী মাসব্যাপী উৎসব।
- 📌 স্বাগত ভাষণ: লালন বিশ্বসংঘের নির্বাহী পরিচালক আবদেল মাননান স্বাগত ভাষণ দেন।
- 📌 উৎসবের পর্যায়ক্রম: ঢাকা থেকে শুরু করে বরিশাল, খুলনা, শেরপুর, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম এবং শেষে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হবে।
📰 বিস্তারিত
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, আজকের বাংলাদেশের অবস্থা দেখে তিনি নিজেকে অসহায় ও লজ্জিত মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলার শত শত নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা সভ্যতা ও সংস্কৃতি আজ অন্ধকারের গহ্বরে ডুবে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সমস্ত দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি, ফলে আমাদের অন্তর ও আত্মা মরে যাচ্ছে।”
ফজলুর রহমান সৌদি আরবের সংস্কৃতির উন্নতির সাথে তুলনা করে বলেন, সেখানে নারীরা আজ গাড়ি চালাচ্ছেন, খেলাধুলা করছেন, কিন্তু বাংলাদেশে সংস্কৃতির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সৌদি আরবে নারীরা বাংলাদেশের চেয়ে সংস্কৃতিতে অনেক বেশি আলোকিত। অথচ আমরা নিজেদের সংস্কৃতি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”
‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করে, তারা মানুষে বিভাজন তৈরি করে। কোনো ধর্মেই বিভাজনের কথা নেই। শান্তির পথ প্রতিষ্ঠায় অনেক লড়াই করতে হয়।”
উৎসবের সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হাদী, লালনপন্থী সাধক ফকির আবুল হোসেন শাহ, কবীরপন্থী সাধক নিঝুম পাইনকা, গুরুদুয়ারা নানকশাহী ডা. এম কে রায় এবং গবেষক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান।
"আমি জানি না, হয়তো একটি অন্ধকার রাতে একটি নিভু নিভু প্রদীপ যেমন সামান্য একটি জায়গাকে আলোকিত করে, আজকের এই অনুষ্ঠানও তেমনি বাংলার বাঙালি সংস্কৃতির ওপর নেমে আসা অন্ধকারকে কিছুটা হলেও আলোকিত করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি), বরিশাল, খুলনা, শেরপুর (ময়মনসিংহ), রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট (শ্রীমঙ্গল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সেপ্টেম্বর (উদ্বোধনী অনুষ্ঠান), ৩০ অক্টোবর (সমাপনী অনুষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!