📌 অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল 'ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন' টকশোতে ছাগল চুরির ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ছাত্রনেতারা তাদের মেয়ের পোষা ছাগলকে প্রতিশোধ হিসেবে খেয়ে ফেলার ঘটনাটি ছিল মানসিকভাবে নির্যাতনের সর্বোচ্চ রূপ। মেয়ের মানসিক অবস্থা আজও ভেঙে পড়ার সীমায় রয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, ছাত্রনেতারা তাদের মেয়ের পোষা ছাগলকে প্রতিশোধ হিসেবে খেয়ে ফেলার ঘটনাটি ছিল জীবনের অন্যতম কষ্টসাধ্য ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হৃদয়বিদারক ঘটনা: ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ছাগল চুরি ও খাওয়ার ঘটনাটি ছিল ‘জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা’।
- 📌 মেয়ের মানসিক আঘাত: মেয়ের বয়স ছিল সাড়ে ৯ বছর। ছাগলটি খাওয়ার পর মেয়ে দেড় দিন খেতে পারেননি এবং আজও জানেন না ছাগলটি কীভাবে খাওয়া হয়েছে।
- 📌 প্রতিশোধের দাবি: উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন তুলে বলেন, ছাত্রনেতারা আসিফ নজরুলকে ‘বিএনপির লোক’ বলে প্রতিশোধ হিসেবে ছাগলটি খেয়েছেন।
- 📌 অমানুষিক পদ্ধতি: আসিফ নজরুল বলেছেন, ছাগলটিকে প্রথম বঁটি দিয়ে কাটা যাচ্ছিল না। পরে কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি নিয়ে ছাগলটিকে কাটা হয়।
- 📌 বিরোধের অভাব: তিনি দাবি করেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে আসিফ নজরুল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আপনার ওপর ছাত্রনেতারা এতই অসন্তুষ্ট ছিল যে, আপনার শিশুর পালা একটি পোষা প্রাণী তারা প্রতিবাদস্বরূপ নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলেছিল।’ আসিফ নজরুল বলেন, ‘কে বলেছে আমি জানি না।’ তিনি জানান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য নাহিদ, আসিফ ও আখতারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত অন্তরঙ্গ। তবে বাইরের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকার কারণে সম্ভবত কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘হেয়ার রোডে একা বাসা। আমরা মেয়ের জন্য একটা ছাগল কিনে দিই। প্রত্যেকদিন ছাগলটা বসে থাকত স্কুলে যাবার সময়। স্কুল থেকে আসার পর মেয়ে তার সঙ্গে খেলত। মেয়ের ফোনে তার মায়ের ছবি বাদ দিয়ে ছাগলটির গলা জড়িয়ে রাখা ছবি ছিল।’
ছাগলটি খাওয়ার পর মেয়ের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘তখন আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিচ্ছিল এবং সে প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারেনি। খুবই অসুস্থ হয়ে গেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, বাবা দরজাটা খোলা ছিল; এটা পালায় চলে গেছে। কিন্তু মেয়ের কাছে ছাগলটি খাওয়া হয়েছে বলে জানালে সে প্রচণ্ড ভেঙে পড়বে।’
"এটা যদি কেউ আপনাকে বলে থাকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে, তাহলে তার মতো অমানুষ, পিশাচ, নির্মম, খারাপ কোনো মানুষ হতে পারে না। পুরো ঘটনাটা জাস্ট মজা করে করেছে।"
আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। তিনি দাবি করেন, ‘শেষ দিন পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ছাগলটাকে কাটা হয়েছে কীভাবে এটাও শুনতে হবে। আপনার ছাগলটা প্রথম বঁটি দিয়ে কাটা যাচ্ছিল না। তো অর্ধেক যখন কাটা হয়েছে, তখন কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটাকে কাটা হয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. আসিফ নজরুল (অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (মেয়ের বয়স), ১০ সেপ্টেম্বর (টকশো তারিখ), ১০ টা (টকশো সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!