📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ঐতিহাসিক হলের অডিটোরিয়াম দীর্ঘদিনের অপরিচর্যার কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। কর্মচারীরা এগুলোতে বাসা করে, ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে পড়ছে এবং সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাংস্কৃতিক দৈন্যদশা' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ঐতিহাসিক হলের অডিটোরিয়াম দীর্ঘদিনের অপরিচর্যার কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সুবিশাল অডিটোরিয়ামগুলো এখন কর্মচারীদের বাসাবাড়ি, গুদামঘর এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাংস্কৃতিক দৈন্যদশা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অডিটোরিয়াম** বর্তমানে 'টিভি রুম' নামে পরিচিত, যেখানে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না।
- 📌 **মুহসীন হলের অডিটোরিয়ামে** কর্মচারীরা মঞ্চের পেছনে পর্দা টানিয়ে বাসা করে, দোতলার কক্ষগুলোও বাসাবাড়িতে রূপান্তরিত হয়েছে।
- 📌 **সূর্যসেন হলের 'শহীদ এইচ এম ইব্রাহীম সেলিম মিলনায়তনে'** দু’টি প্রবেশদ্বারে দীর্ঘদিনের তালা ঝুলছে, ভেতরে অকেজো আসবাবপত্র স্তূপিত রয়েছে।
- 📌 **হল সংসদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে** শিক্ষার্থীদের হলকেন্দ্রিক সংস্কৃতি চর্চা স্থবির হয়ে পড়েছে।
- 📌 **বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন** নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পুরাতন অডিটোরিয়াম সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ঐতিহাসিক হলের অডিটোরিয়ামগুলো দীর্ঘদিনের অপরিচর্যার কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের অডিটোরিয়ামে এখন বিনোদনের বদলে মঞ্চের পেছনে পর্দা টানিয়ে সপরিবারে বসবাস করছেন কয়েকজন হল কর্মচারী। দোতলার কক্ষগুলোও কর্মচারীদের বাসাবাড়িতে রূপান্তরিত হয়েছে। ভবনের ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে রড বেরিয়ে এসেছে। পর্দার আড়ালে অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে অবস্থিত 'হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল কল্যাণ সমিতি'র কার্যালয়টি এখন শিক্ষার্থীদের অচেনা।
মাস্টারদা সূর্যসেন হলের 'শহীদ এইচ এম ইব্রাহীম সেলিম মিলনায়তনের' অবস্থাও উদ্বেগজনক। দু’টি প্রবেশদ্বারেই দীর্ঘদিনের তালা ঝুলছে, ভেতরে অকেজো আসবাবপত্র স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা যায় কর্মচারীদের আবাসন। ছাদ ও বাইরের রেলিংয়ের ঢালাই খসে পড়ছে। কয়েক বছর আগেও ঢালাই ধসে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অডিটোরিয়ামটি ১৯৩১ সালের ১১ আগস্ট উদ্বোধিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল স্থাপিত হয়েছিল। ওই সময় শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন ও নাট্যচর্চার পথ সুগম করতেই হলগুলোতে বিপুল দর্শক আসন নিয়ে অডিটোরিয়ামগুলো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব অডিটোরিয়ামগুলোতে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না।
"হলের অডিটোরিয়ামটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রভোস্ট স্যার ভবনের ঝুঁকির কথা জানালে আমরা আর পুরাতন অডিটোরিয়ামটি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করিনি। এখানে নতুন ভবন হলে তখন অডিটোরিয়াম চালু হবে আশা রাখি।"
— মো. জুলহাস ইসলাম, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
মুহসীন হলের শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও কার্যকর হল সংসদ না থাকায় প্রশাসনের ওপর কোনো চাপ থাকে না। হল সংসদ অকার্যকর ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে অবকাঠামোগুলো এমন অযত্নে পড়ে আছে। এই পরিবেশ থেকে বের হতে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।'
মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, 'এখানে যে ভবন আছে সেটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন ভবন হবে। তখন অডিটোরিয়ামটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মো. জুলহাস ইসলাম, মাহিন আহমেদ, ড. সিরাজুল ইসলাম, তানভীর নাহিদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৩১ (সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের উদ্বোধন), ১১ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!