📌 মিরপুরে যুব মহিলা লীগের নেত্রীকে নির্যাতনের ভ্রান্ত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-সম্পাদিত ছবি ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, কোনো অভিযোগ আসেনি এবং দাবিকৃত নারীর পরিচয়ও পাওয়া যায়নি
মিরপুরে যুব মহিলা লীগের নেত্রীকে নির্যাতনের ভ্রান্ত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-সম্পাদিত ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম আলোর যাচাইয়ে দেখা গেছে, অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়ানো হয়েছে। ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে কোনো সত্যিকারের ঘটনা বা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুরে যুব মহিলা লীগের নেত্রীকে নির্যাতনের ভ্রান্ত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-সম্পাদিত ছবি ছড়ানো হয়েছে।
- 📌 ৬ নভেম্বর শুক্রবার দিনভর ফেসবুক ও এক্সে অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়ানো হয়েছিল।
- 📌 ছবিতে ব্যবহৃত এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে কোনো সত্যিকারের ঘটনার প্রমাণ নেই।
- 📌 দাবিকৃত নারী মিরপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি তাঁকে বলেছিলেন, ‘সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’।’
- 📌 ফিরোজ নামের ব্যক্তিকে দায়ী করে পোস্ট করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে অসংগতি রয়েছে।
- 📌 ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে এক্সে ছড়ানো দাবির পোস্ট।
📰 বিস্তারিত
মিরপুরে যুব মহিলা লীগের নেত্রীকে নির্যাতনের ভ্রান্ত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবিটি প্রথম আলোর যাচাইয়ে এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়েছে, একজন নারীকে ‘পাশবিক নির্যাতন’ করা হয়েছে। ছবিতে নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখানো হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। দাবিকৃত নারীকে ‘শ্রীময়ী রীতা রানী’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যিনি মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ হিসেবে পরিচিত।
পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়েছে, নারীকে ‘হিন্দু’ এবং ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম আলোর যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিকৃত নারীর কোনো পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পোস্টদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউই নারীর পরিচয় বা অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তারা স্বীকার করেছেন, অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন।
ছবিটি প্রথমে ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। পরে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়ানো হয়েছিল। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করেন। তাঁর পোস্টে প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্ট রাত নয়টায় ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছিল।
"ওসি তাঁকে বলেন, তাঁর সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’। ওসি তাঁকে বোরকা পরার পরামর্শও দেন।"
ছবিটি যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি একটি এআই-সম্পাদিত ছবি। তবে পুরো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কিনা, নাকি আগের কোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ছবির সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের একটি ছবি পাওয়া যায়, যেখানে ভারতের কেরালায় যৌতুকের দাবিতে এক নববধূকে তাঁর স্বামীর নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে মিরপুরের দাবিকৃত ঘটনার সঙ্গে ওই ছবির কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রীময়ী রীতা রানী (দাবিকৃত নারী), ওসি (মিরপুর থানা), Dr Baidyanath Ghosh, এস এম জাকির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ নভেম্বর, ১১:৫৯, ৪:৪৮, ১ লাখ ৪৮ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!