📌 রাজনীতির শুরু থেকে শেষে পৌঁছেছে একজন ছাত্রের জীবনযাত্রা। বাবার পোস্টার লাগানোর কাজ থেকে শুরু করে আন্দোলনের মাঠে নামার পথে তিনি দেখেছেন ঝামেলা, রক্ত ও সত্যিকারের রাজনীতির মুখ। বাবার আঠার বালতি থেকে রাজনীতির মাঠে নামার সেই গল্পের স্মৃতিচারণ
শহরের দেয়ালে পোস্টার লাগানোর সেই রাতের গন্ধ আর আঠার বালতির স্মৃতি থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে নামার পথে একজন ছাত্রের জীবনযাত্রার গল্প। বাবার হাতে ব্রাশ, পেছনে সাইকেলের আঠার বালতি — সেই ছোট্ট কাজ থেকে শুরু করে আন্দোলনের মাঠে নামার পথে তিনি দেখেছেন ঝামেলা, রক্ত ও সত্যিকারের রাজনীতির মুখ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাবা পোস্টার লাগাতেন যাদের টাকা দিতেন, সেই দেয়ালের রাজনীতি শেখানোর মাধ্যমে ছেলেকে রাজনীতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন
- 📌 "দেয়াল কারও না, যে আগে লাগায়, দেয়াল তার" — এই কথাটি বাবা ছেলেকে রাজনীতির প্রথম শিক্ষা হিসেবে দিয়েছিলেন
- 📌 ছাত্রসংগঠনে জড়িয়ে পড়ার পর বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথম ঝামেলা হয়েছিল পোস্টার লাগানোর সময়, যখন একই দেয়ালে দুটি পোস্টার লাগানো হয়েছিল
- 📌 বাবা পোস্টার লাগানোর সময় ঝামেলায় পড়ে গিয়ে আহত হন, কিন্তু বলেছিলেন, "ঝামেলা আমার কাছে আসে, আমি ঝামেলায় থাকি না"
- 📌 রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার পর বাবা ছেলেকে বলেছিলেন, "তুই রাজনীতি ছাড়বি? তাহলে আমি কেন ছাড়ব?"
- 📌 আন্দোলনের সময় বাবা ছেলেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু ছেলে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিলে বাবা বলেছিলেন, "ভালো লাগতেছে না"
📰 বিস্তারিত
বাবা পোস্টার লাগাতেন যাদের টাকা দিতেন। কোনো দলের পোস্টার, কোনো নেতার ছবি — সেগুলো দেয়ালে লাগানোর কাজে বাবা মাঝেমধ্যে ছেলেকে নিয়ে যেতেন। শহরের অলিগলিতে রাতের একটা আলাদা গন্ধ ছিল — স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, ড্রেনের পানি, চায়ের দোকানের শেষ ধোঁয়া আর পোস্টারের আঠা। সেই গন্ধের মধ্যে বাবা ছেলেকে রাজনীতির প্রথম শিক্ষা দিয়েছিলেন। "দেয়াল কারও না, যে আগে লাগায়, দেয়াল তার" — এই কথাটি বাবা ছেলেকে রাজনীতির প্রথম শিক্ষা হিসেবে দিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর রাজনীতি ছেলের কাছে আর বাবার আঠার বালতির মতো নিরীহ ছিল না। রাজনীতি হয়ে গিয়েছিল মিছিল, স্লোগান, কমিটি, পদ, বিরোধ, রাতের ফোন, ফেসবুক পোস্ট, প্রেস রিলিজ আর ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানের টেবিল। ছেলে একটা ছাত্রসংগঠনে জড়িয়ে পড়লেন। প্রথম দিকে মনে হতো, তারা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথম ঝামেলা হয়েছিল পোস্টার লাগানোর সময়। এক রাতে দেখলেন, একই দেয়ালে দুটি পোস্টার লাগানো। তার ওপর আরেকটা সংগঠনের পোস্টার। তার ওপর কারও হাতে লেখা ছিল, "এই দেয়ালটা কি মানুষের নয়?" বাবা বলেছিলেন, "লাগা" — কিন্তু ছেলে বুঝতে পারেননি।
বাবা নিজেই ব্রাশ নিয়ে পোস্টার লাগিয়ে দিলেন। কয়েক মাস পর ছেলে সংগঠনের বড় সমাবেশে দায়িত্ব পেলেন ব্যানার আর পোস্টারের। সারা দিন দৌড়াদৌড়ি করে রাতের দিকে যখন বাসায় ফিরছিলেন, ফোন এল। বাবার দোকানের সামনে ঝামেলা হয়েছিল। বাবা আহত হন। ডাক্তার বলেছিলেন, "বয়স হয়েছে। এসব ঝামেলায় থাকেন কেন?" বাবা হেসে বলেছিলেন, "স্যার, আমি ঝামেলায় থাকি না। ঝামেলা আমার কাছে আসে।"
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। আন্দোলন হলো। ফেসবুকে সবাই বিপ্লবী, চায়ের দোকানে সবাই বিশ্লেষক, রাস্তায় সবাই নেতা। কেউ বলল, "এইবার সব বদলে যাবে।" কেউ বলল, "কিছুই বদলাবে না।" ছেলে মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক রাতে গ্রুপে মেসেজ এল — "সকাল থেকে সবাই সাবধানে থাকবেন। পরিস্থিতি খারাপ।" আরেকটা মেসেজ এল — "যাঁরা মাঠে থাকবেন, তাঁদের নাম লিখে পাঠান।" ছেলে নিজের নাম লিখলেন। বাবা জেগে ছিলেন। বললেন, "কোথায়?" ছেলে বললেন, "ক্যাম্পাসে।" বাবা বললেন, "আজ যাস না। ভালো লাগতেছে না।"
"তুই রাজনীতি ছাড়বি? তাহলে আমি কেন ছাড়ব?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শহরের দেয়াল, ছেলের বাসা, বাবার দোকান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাবা, আমি (ছেলে), ভাইয়েরা, বন্ধু, ডাক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: একটা দেয়ালে দুটি পোস্টার, একটা আন্দোলন, একটা সমাবেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!