📌 ১৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে প্রার্থীদের জন্য হলফনামা জমা দেওয়ার নিয়ম শিথিল করেছে। স্বজনদের আয়কর তথ্য ও জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার বিধানও স্পষ্ট করা হয়েছে
১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সহজতা ও আইনি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি মেনে এই সংশোধনীতে স্বজনদের আয়কর তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং জামিনে মুক্ত প্রার্থীদের জন্য সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার নিয়মও বাতিল করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
- 📌 প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছে।
- 📌 স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক নয়।
- 📌 জামিনে মুক্ত প্রার্থীদের জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার নিয়ম বাতিল করা হয়েছে।
- 📌 কারাঅন্তরীণ প্রার্থীদের জন্য আরপিও অনুযায়ী সত্যায়ন নিয়ম অপরিবর্তিত।
- 📌 নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- 📌 ৯ মাস পর স্থায়ীভাবে আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিধিমালা সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন হলফনামার সংযুক্তি-১ এর ১০ নম্বর ক্রমিকে বিশেষ ব্যাখ্যা যুক্ত করেছে। এতে স্বজন ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক ঘোষণা করা হয়েছে। আগে এই তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া, ফৌজদারি মামলায় জামিনে মুক্ত প্রার্থীদের জন্য আদালত থেকে জামিন লাভের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার নিয়মও বাতিল করা হয়েছে। সংযুক্তি-১ এর ৩ নম্বর ক্রমিকের (খ) অংশে ‘সংযুক্তি করিতে হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারাঅন্তরীণ প্রার্থীদের জন্য আরপিও অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দলিলাদি সত্যায়ন করার নিয়ম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিধিমালার সংযুক্তি-১ এর ৩ নম্বর ক্রমিকের (গ) অংশে নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। এতে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’ শব্দের অর্থ সীমাবদ্ধ করে বলা হয়েছে যে, কেবল সেই আসামিকে বোঝাবে যার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠিত হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে হলফনামার তৃতীয় অংশে প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টতা আনা হয়েছে। প্রার্থী নিজে অথবা তার নিয়োজিত এজেন্টের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করার বিধান স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
৯ নম্বর বিধির ১ নম্বর উপ-বিধিতে থাকা একটি পুরনো করণিক ভুলও সংশোধন করা হয়েছে। মূলত ‘না’ প্রতীক সংক্রান্ত তালিকায় ভুলবশত নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ ছিল, যা নতুন সংশোধনীতে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে স্বজনদের সম্পদের তথ্য এবং জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সিইসির সাথে বৈঠক করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। দলগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রথমে এক পরিপত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো ঐচ্ছিক হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছিল। পরিপত্র জারির দীর্ঘ ৯ মাস পর এবার স্থায়ীভাবে বিধিমালা সংশোধন করে সেই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো আইনি কাঠামোয় যুক্ত করা হলো।
"প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও শিথিল হয়েছে। স্বজনদের আয়কর তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার নিয়মও বাতিল করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নির্বাচন কমিশন, প্রার্থীরা, রাজনৈতিক দলসমূহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১০ নম্বর, ৩ নম্বর, ৯ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!