📌 জামায়াতে ইসলামী সরকারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বের প্রবণতা সন্দেহ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সময়সূচি ঘোষণার পর সরকারের আপত্তি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনাকে সমালোচনা করে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বের প্রবণতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রাথমিক সময়সূচি ঘোষণা করার পর সরকারের আপত্তি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনাকে সমালোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি ঘোষণা করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৭ ধাপের সময়সূচি, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এবং শেষ ধাপ ২৭ মে পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
- 📌 সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানান, যার ফলে ইসি সিদ্ধান্তটি ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে।
- 📌 জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়বে।
- 📌 জামায়াতের ৮ দফা দাবিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং নির্বাচনী রোডম্যাপের দ্রুত ঘোষণা।
- 📌 দলটি সরকারের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাকে সংবিধানবিরোধী বলে সমালোচনা করেছে।
📰 বিস্তারিত
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আপত্তি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তাহলে জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের আচরণের পেছনে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইন ও নীতিকে পরিবর্তন করে একদলীয়ভাবে সরকারদলীয় লোকদের নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে মাগুরার স্টাইলে নির্বাচনের প্লট তৈরি করা হচ্ছে, যা বিরোধী দলকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ৮ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা;
- কোনো মন্ত্রণালয় বা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করা;
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না;
- দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা;
- নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা;
- প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া;
- নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারকে প্রকাশ্য নিশ্চয়তা দেওয়া;
- বর্তমান সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
"নির্বাচন কমিশনকে যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, তাহলে জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মগবাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল), মীর শাহে আলম (প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর, ১২ নভেম্বর, ২৭ মে, ২৪ ঘণ্টা, ৮ দফা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!