📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনারে বলেছেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসন প্রতিরোধে সংবিধান সংশোধন ও গণতন্ত্রের কার্যকর ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনারে বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের উত্থান প্রতিরোধে সংবিধান সংশোধন ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মজবুতীকরণ অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়েছেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সংবিধান সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান রোধ করতে হবে।
- 📌 বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা: তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
- 📌 তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনরুদ্ধার: ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
- 📌 গণতন্ত্রের ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠা: গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠা, উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
- 📌 রাজনৈতিক ঐক্য ও সমঝোতা: তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনারের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়।
সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
"স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার শেরেবাংলা নগর, মনসুন থিয়েটার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ, ফিরোজ আহমেদ, হাবিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৭৫, ২০১১, ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!