📌 ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে অগ্রসর হন নীলফামারীর শেফালী বেগম। পারিবারিক সংকট ও দীর্ঘ শিক্ষাবিরতির পর স্বামী-সন্তানদের সহযোগিতায় তিনি নতুন করে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন নীলফামারীর শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতির পর তিনি গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরিবার ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে এই সাফল্যে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫২ বছর বয়সে** এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন নীলফামারীর শেফালী বেগম
- 📌 **জিপিএ ৪.২১** পেয়ে উত্তীর্ণ হন গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে
- 📌 **পারিবারিক সংকট ও দীর্ঘ বিরতির** পর স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতায় আবার পড়াশোনা শুরু করেন
- 📌 **ছেলে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএসডি**, মেয়ে রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত
- 📌 **শিক্ষক ও কলেজের প্রভাষক** শেফালীর সাফল্যকে সমাজের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন
📰 বিস্তারিত
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শেফালী বেগমের জীবনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফল করলেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ায় শিক্ষাজীবন আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিয়ে ও সন্তানদের লালন-পালনের ব্যস্ততায় নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন একসময় আড়ালে চলে যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর ভাগ্নি ও সন্তানদের লেখাপড়া দেখে আবারও পড়ার আগ্রহ জাগে শেফালী বেগমের মনে। স্বামী মকছেদুল আলম ও তিন সন্তানের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তিনি আবারও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন। বয়স, সংসারের ব্যস্ততা ও দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় সফল হন। তার ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। অন্যদিকে মেয়ে মাখসূরা খানম নাজমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।
শেফালী বেগম বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাগ্নি ও সন্তানদের লেখাপড়া দেখে আবারও পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতায় নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। জিপিএ ৪.২১ পেয়ে এইচএসসি পাস করতে পেরে তার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
"ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাগ্নি ও সন্তানদের লেখাপড়া দেখে আবারও পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতায় নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। জিপিএ ৪.২১ পেয়ে এইচএসসি পাস করতে পেরে তার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।"
গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক আব্দুল মান্নান বলেন, শেফালী বেগমের সাফল্য সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তিনি বলেন, নিয়মিত অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো বয়সেই সাফল্য অর্জন সম্ভব। শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম বলেন, পরিবারের জন্য শেফালী নিজের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর সেই স্বপ্নের একটি পূরণ হওয়ায় তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনার পথে পাশে থাকবেন।
নাতনি ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারাফি রাজের কাছে দাদি এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক। দাদির সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে সে জানায়, তার এই অর্জন দেখে সেও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে চায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন, কালিগঞ্জ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেফালী বেগম, আব্দুল মান্নান (প্রভাষক), মকছেদুল আলম (স্বামী), শারাফি রাজ (নাতনি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ বছর বয়স, জিপিএ ৪.২১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!