📌 জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা দেশকে ঘিরে ধরেছে। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি দেশকে শক্তিশালী করেছে
জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগকে নষ্ট করে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যায় পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জহরত আদিব চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে
- 📌 ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচারণা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবদুল মান্নান
- 📌 জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার শিক্ষা দিয়েছিলেন
- 📌 জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত সেমিনারে এই আলোচনা হয়েছিল, যেখানে লেখক ও গবেষক তুহিন খান সেমিনার সঞ্চালনা করেছিলেন
📰 বিস্তারিত
জহরত আদিব চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই সুযোগটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সঠিক পররাষ্ট্রনীতি না অবলম্বনের কারণে বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং নতুন রাষ্ট্র হিসেবে সেই প্রভাব এড়াতে না পেরে দেশটি দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেছেন।
মো. আবদুল মান্নান উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত তাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচারণা ছিল যে, ভারত স্বয়ং স্বাধীন বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে। তিনি বলেন, এই বক্তব্য মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ভারত সব সময়ই বাংলাদেশকে নতজানু হিসেবে দেখতে চেয়েছে এবং পাকিস্তান ক্যাম্পেইন করেছিল যে, বাংলাদেশ জন্মের মাধ্যমে মূলত একটি মুসলিম দেশকে দুই ভাগ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি দাঁড় করানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেছেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দেশের নাগরিকদের মনে করেছিল যে, দেশ পাকিস্তানের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে ভারতের হাতে চলে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘পাকিস্তানকে কি বিদায় করেছি ভারতীয় গোলামি করার জন্য?’ এই প্রশ্নটি দেশের প্রবীণ নাগরিকদের মনে প্রশ্ন তুলেছিল। অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান ‘হিজবুল বাহার’ নামের একটি জাহাজে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমুদ্রসীমা দেখাতেন। তিনি বলেছেন, এই শিক্ষা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ছিল যেন তারা ভবিষ্যতে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।
"স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন দেশ হিসেবে আমাদের যারা স্বীকৃতি দিচ্ছিল, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল; কিন্তু সেই সুযোগ আমরা নষ্ট করেছি।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহরত আদিব চৌধুরী, মো. আবদুল মান্নান, এহ্সান মাহমুদ, তুহিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (আগস্টের)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!