📌 সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ৫৪তম বার্ষিকীতে আলোচনায় উঠে আসে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের বাধা, আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও প্রতিবন্ধী, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের অভাব
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪তম বার্ষিকীতে সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের বাধাগুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও অধিকারকর্মীরা সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের বাধাগুলো নিয়ে কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, তবে মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে এটিই যথেষ্ট নয়** — জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সংশোধন করতে পারে, কিন্তু মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা সংসদকে দেওয়া হয়নি।
- 📌 **সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে** — অধিকারকর্মীরা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষার অভাব রয়েছে, শিক্ষা ও চাকুরিতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।
- 📌 **আদালতে প্রতিকার পেতে দেরি ও আইন বাস্তবায়নের জটিলতা** — অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বোরহান উদ্দিন উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয় না।
- 📌 **সংবিধান প্রণয়নে নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল** — আলোচক নুরুন্নাহার ঊর্মি বলেন, ১৯৭২ সালের গণপরিষদের বিতর্কে তাদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত।
- 📌 **পরিবেশ সুরক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেবার দাবি** — পরিবেশ অধিকারকর্মী বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা আরও স্পষ্ট করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। এই দিনটি স্মরণ করে বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন আয়োজন করে আলোচনা সভা। আলোচনায় আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও অধিকারকর্মীরা সংবিধান সংশোধনের সীমা এবং নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের বাধা নিয়ে কথা বলেন।
সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক, বলেন, সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পরও ঔপনিবেশিক ও সামরিক শাসনামলের বহু আইন এখনো কার্যকর রয়েছে। এসব আইন দিয়ে প্রতিদিন মানুষের জীবন ও নাগরিক অধিকার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে প্রতিকার পেতে অনেক সময় লেগে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয় না।
অধিকারকর্মী বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, সংবিধানে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে, তবে আইন বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলেন।
"সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও দেখতে হবে, সংবিধানে তাদের অধিকার কীভাবে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।"
— সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সারা হোসেন, প্রবীর নিয়োগী, বোরহান উদ্দিন, বারীশ হাসান চৌধুরী, নুরুন্নাহার ঊর্মি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ (সংবিধানের বার্ষিকী), ৪ (নভেম্বর), ১৪২ (সংবিধান সংশোধনের অনুচ্ছেদ), ২৬, ৪৪, ১০২, ৩৩ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ), ২৪ (ঘণ্টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!