📌 চট্টগ্রামের লালদিঘিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তিনি সরকারের প্রতারণা ও ৭০% জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি তোলেন। বিরোধীদলীয় নেতারা সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সমালোচনা করেন
চট্টগ্রামের লালদিঘিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতারা সরকারের প্রতারণা ও জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি তোলেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী দিনে যে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে, তার সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ডা. শফিকুর রহমান** বলেন, বাংলাদেশের ৭০% জনগণের দেওয়া গণরায়কে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সেই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
- 📌 **গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট** থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত ভৌতিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, তেল ও জ্বালানির জন্য দেশব্যাপী হাহাকার চলছে।
- 📌 **সন্ত্রাস ও রাহাজানি** বৃদ্ধি পেয়েছে, সরকার জনগণকে কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি বলে দাবি করা হয়।
- 📌 **বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম** সরকারকে স্বৈরাচারের সমস্যা সমাধানের জন্য বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করতে বলেন এবং স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ করে দেবার অভিযোগ করেন।
- 📌 **লালদিঘির সমাবেশে** ১১ দলীয় নেতারা একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সুশাসনের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
- 📌 **বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক** বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং গণভোট সংস্কারের ঐক্যমত পোষণ করেনি।
- 📌 **বিরোধীদলীয় নেতারা** সরকারের অর্থনৈতিক পঙ্গু অবস্থা ও ব্যাংকে টাকার অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের লালদিঘিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রতারণা ও জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি তোলার পাশাপাশি আন্দোলনের গতিকে রুদ্ধ করতে আসা যেকোনো ধরনের লোভ বা প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করা হবে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার জনগণকে কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত ভৌতিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। তেল ও জ্বালানির জন্য দেশব্যাপী হাহাকার চলছে। এছাড়া দলীয় আনুকূল্যে সন্ত্রাস ও রাহাজানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারের সমস্যা সমাধান না করলে সরকারকে প্রথমে জনগণের কাছে স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের কাছে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনো সঠিক পরিকল্পনা নেই। অবিলম্বে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার পতিত স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ করে দিচ্ছে, কারণ জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না।
সভাপতিত্বকারী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থে নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে রাজপথে এসেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোট ছাড়া অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে, ব্যাংকে কোনো টাকা নেই এবং প্রতিদিন নতুন নোট ছেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, তারা গণভোট সংস্কারের ঐক্যমত পোষণ করেনি, শুধুমাত্র নির্বাচন আদায় করাই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারের ছাড় দেবেন না। তিনি বলেন, অবিলম্বে জুলাই সনদ মেনে জনদাবি পূরণ করতে হবে।
"বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া গণরায়কে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সেই গণআকাঙ্ক্ষা ও রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিরতি বা থামাথামি ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম, ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম, মামুনুল হক, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০% (জনগণের রায়), ১১ দলীয় (ঐক্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!