📌 কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জামায়াতকর্মী আহত হন। রকি হোসেনকে আটক করে আহত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দু’জামায়াতকর্মী আহত হন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে। সংঘর্ষের পর র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দু’জামায়াতকর্মী আহত: শহীদুল ও বাবুল নামে দু’জন জামায়াতকর্মী আহত হন, একজনকে মাথায় কোপ দেওয়া হয়।
- 📌 রকি হোসেন আটক ও আহত: রকি হোসেনসহ ১০-১২ জন সহযোগী ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে রকিকে আটক করে গণপিটুনিতে আহত করা হয়।
- 📌 তদন্ত কমিটি গঠন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম।
- 📌 সমঝোতা সভায় সিদ্ধান্ত: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হলে রেইড নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- 📌 ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা: কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
শনিবার দুপুর ৩টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি শুরু হয় যখন একজন ছাত্রশিবির নেতাকে চড় মারার চেষ্টা করা হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জামায়াতকর্মী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শহীদুল ও বাবুল নামে দু’জন জামায়াতকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে একজনকে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। পরে আহতদের হরিনারায়ণপুর চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সমঝোতা সভায় উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হলে রেইড ও বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে মেধার ভিত্তিতে নিশ্চিতকরণ।
ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান জানান, তিনি একজন ছাত্রশিবির নেতাকে বেয়াদব বলার পর তাকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন। তবে তিনি বলেন, তার সঙ্গে আগে কোনো সমস্যা ছিল না। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আপাতত সমাধান হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, খুব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে, যা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
রকি হোসেনসহ তাঁর ১০-১২ জন সহযোগী আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে স্থানীয়রা তাঁদের ধাওয়া দিলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রকিকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তিনি আহত হন।
"আপাতত সমঝোতা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সে অপেক্ষায় আছি।"
— জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেন, শাখা ছাত্রশিবির
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া; হরিনারায়ণপুর চিকিৎসাকেন্দ্র, খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ সেলিম, আলীনূর রহমান, রকি হোসেন, শহীদুল, বাবুল, জুহায়ের হোসেন, ড. শাহীনুজ্জামান, ড. এ কে এম মতিনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ টা (ঘণ্টা), ৬ টা (টার), ৭২ ঘণ্টা, ১০-১২ জন সহযোগী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!