📌 উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন নতুন আচরণ বিধিমালা জারি করেছে। পোস্টার ব্যবহার, মিছিল, হেলিকপ্টার প্রচারণা ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে পারে আইন
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আচরণ বিধিমালা জারি করেছে। এই বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার, মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আচরণ বিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
- 📌 নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ — ভবন, দেয়াল, গাছ, সরকারি স্থাপনা সহ সব ধরনের স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহার বন্ধ।
- 📌 মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ — ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে মিছিল করা যাবে না।
- 📌 হেলিকপ্টার ও আকাশযান ব্যবহার নিষিদ্ধ — নির্বাচনী প্রচারে এ ধরনের যানবাহন ব্যবহার বন্ধ।
- 📌 এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিষিদ্ধ — মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।
- 📌 সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ — সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
- 📌 লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা — প্রার্থিতা বাতিলেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণার ধরন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রচার্য মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।
নতুন বিধিমালায় ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
"নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের সকল উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আখতার আহমেদ (সিনিয়র সচিব, নির্বাচন কমিশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাস কারাদণ্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!