📌 জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়। আইনে দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন। বিরোধী দলের নেতারা শরিয়ত বিরোধিতার কারণে বিলের বিরোধিতা করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন, কিন্তু বিল পাস হয়
জাতীয় সংসদে আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়। এই সংশোধনী আইনে দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিধান রাখা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিল অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জীবদ্দশায় ভোগাধিকার: দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত দানকৃত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন, মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের কাছে সম্পত্তি স্থানান্তরিত হবে
- 📌 বিরোধী দলের আপত্তি: বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নাজিবুর রহমান কোরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে বিলের বিরোধিতা করেন
- 📌 বিতর্কের পর পাস: বিরোধী সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করলেও কণ্ঠভোটে বিল পাস হয়
- 📌 আইনমন্ত্রীর জবাব: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, হেবা বা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না
📰 বিস্তারিত
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। তিনি বলেন, এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে এবং প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিলের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমরা কি কোরআনের মূলনীতি রাখব, নাকি বাদ দেব?’ তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন শরিয়তের সঙ্গে ‘কন্ট্রাডিকশন’ রয়েছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, পিতা-মাতা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর তাদেরকে বের করে দেওয়ার বাস্তবতা বিবেচনা করেও ইসলামি বিধানকে পাস কাটানো যাবে না।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি এবং সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিল আনা হয়েছে। বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান, কিন্তু অল্পক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি পাস হয়।
"আমরা কি কোরআনের মূলনীতি রাখব, নাকি বাদ দেব? এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতের নাজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৮২ (আইনের বছর), ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (পাসের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!