📌 জাতীয় সংসদে গুমকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড ও কোটি টাকা জরিমানা সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এতে মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগস্বত্বের বিধান যুক্ত করা হয়েছে এবং গুমের তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতারা বিলের কিছু বিধান নিয়ে সমালোচনা ও ওয়াক আউটের দাবি জানিয়েছেন
জাতীয় সংসদে গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে পাস হওয়া এই আইনগুলো হলো: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬। এতে গুমের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা, সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ এবং মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার বিধান রাখা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।
- 📌 মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী: ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন কমিশন গঠিত হবে, যেখানে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকার বিধান রাখা হয়েছে।
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগস্বত্ব: ১৮৮২ সালের আইনে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এতে মা-বাবা, দাদা-দাদি বা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও দাতা আমৃত্যু তা ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন। বিধানটি সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
- 📌 তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ: গুমের তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ফান্ড এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধানও রাখা হয়েছে।
- 📌 বিরোধীদলীয় নেতাদের সমালোচনা ও ওয়াক আউট: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিলের কিছু বিধান নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের কিছু বিধান কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন এবং সাময়িক ওয়াক আউট করেন।
📰 বিস্তারিত
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে পাস হওয়া এই তিনটি আইন দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর কারও অবস্থান অস্বীকার বা গোপন করাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে। এই বিলে গুমের সাধারণ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলে ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন কাঠামো করা হয়েছে। এতে কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন গঠনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নোটিশ দিয়ে জবাব চাইতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বিলটির সমালোচনা করেছেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের কিছু বিধান কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি নাকচ হলে তাঁরা সাময়িক ওয়াক আউট করেন।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিলে ১৮৮২ সালের আইনে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এতে মা-বাবা, দাদা-দাদি বা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও দাতা আমৃত্যু তা ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন। বিধানটি সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধনীটি সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
"গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০:৫৪ (এএম), ৭ সেপ্টেম্বর, ৬ সেপ্টেম্বর, ১২০ দিন, ১ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!