📌 বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে ৫০টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনে বিরোধী দলের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ দাবি করলেও তারা শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পেয়েছে। সাংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে
বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনে বিরোধী দলের সাথে সরকারের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দল ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত তারা শুধুমাত্র সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছে। এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ দাবি করলেও বিরোধী দল পেয়েছে শুধু ১টি — সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
- 📌 ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১১টি বিষয়ভিত্তিক ও ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত — মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিগুলোতে ১০ সদস্যের সদস্যপদ রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সভাপতি হতে পারবেন না।
- 📌 সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে না — সরকারের দাবি, অতীতের রীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- 📌 ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদে প্রথমে মন্ত্রীদের সভাপতি হওয়া বন্ধ করা হয় — কিন্তু বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তৎকালীন সময়েও বড় বিরোধ দেখা দিয়েছিল।
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেছেন — সরকারি দলের সদস্য সভাপতি হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে না, বিরোধী দলের সভাপতি হলে আলোচনার সুযোগ বাড়ে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১১টি বিষয়ভিত্তিক এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিগুলোতে ১০ সদস্যের সদস্যপদ রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সভাপতি হতে পারবেন না। সভাপতি পদাধিকারবলে নির্ধারিত কমিটিগুলো ছাড়া অন্যান্য কমিটির সভাপতি কোন দল থেকে আসবেন তা সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দলের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পায়।
বিরোধী দলের দাবি ছিল, জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিসহ মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়। সরকারি দলের বক্তব্য, এবার অতীতের রীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন হলে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, “বিভিন্ন দেশে সাংসদীয় কমিটিতে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে পদ দেওয়া প্রচলিত রীতি। সরকারি দলের সংসদ সদস্য সভাপতি হলে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় আনতে চান না। বিরোধী দলের সভাপতি হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সুযোগ বাড়ে।”
১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদে প্রথমে মন্ত্রীদের সভাপতি হওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়েও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছিল। কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিএনপির ৩ জন সদস্য ছিলেন। তখন বিএনপির মূল দাবি ছিল দুটি—সাংসদীয় কমিটি ১২ সদস্যের করা এবং সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে কমিটিতে সদস্য রাখার বিধান করা। তবে ১৯৯৭ সালের ১৪ মে বিশেষ কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে এই দুটি দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই বছরের ১০ জুন সংসদে প্রতিবেদনটি পাস হয়।
“মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সাংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রীদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হলেও, বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সাংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পায়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নিজাম উদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০টি কমিটি, ১৪টি সভাপতি পদ দাবি, ১টি পেয়েছে, ১০ সদস্যের কমিটি, ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি, ৩ জন বিএনপি সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!