📌 রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে গ্রেপ্তার আদেশ জারি করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর ৭৮ লাখ টাকার সম্পদ আয়কর নথির বাইরে পাওয়া গেছে
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে গ্রেপ্তার আদেশ জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার আদেশ দেন। এ ঘটনায় দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার আদেশ জারি করা হয়েছে।
- 📌 ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা সম্পদ আয়কর নথির বাইরে পাওয়া যায়।
- 📌 ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সাদিয়া আরবী ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা সম্পদ ঘোষণা করলেও, তদন্তে তার নামে ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা সম্পদ পাওয়া যায়।
- 📌 ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় বিবেচনায় নিলে সাদিয়া আরবীর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা।
- 📌 মোহাম্মদ সাহেদ তার স্ত্রীকে অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করতে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
- 📌 দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
- 📌 সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন জামিনের আবেদন করেন, তবে শুনানি হয়নি।
- 📌 মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে ২০২১ সালের ৭ মার্চ মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিনের তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে দেখা যায়, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার নামে হস্তান্তর ও গোপন করতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাদিয়া আরবী ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ ঘোষণা করেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া, তার অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা, কিন্তু আয়কর নথিতে তার অর্জিত আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ আয়কর নথির বাইরে এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে আসে।
মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অস্ত্র ও চেক ডিজঅনারসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক আদালতের পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
"দুদকের তদন্তে মোহাম্মদ সাহেদ করিমের স্ত্রী সাদিয়া আরবীর ৭৮ লাখ টাকার সম্পদ আয়কর নথির বাইরে পাওয়া গেছে। তার স্বামী অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপন করতে সহায়তা করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সাহেদ করিম, সাদিয়া আরবী, দেলোয়ার জাহান রুমি, মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম, দবির উদ্দিন, মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা (অবৈধ সম্পদ), ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা (সাদিয়া আরবীর সম্পদ), ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকা (গোপন সম্পদ), ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি (অভিযোগপত্র দাখিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!