📌 গাজীপুরের জয়দেবপুরে বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২) নারীর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তার মা ও বন্ধু সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে জানা গেছে, লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে খালে ফেলা হয়েছিল
গাজীপুরের জয়দেবপুরে বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকের হাতে নারীর হত্যা এবং তার মা ও সহযোগীর গ্রেপ্তারের ঘটনা পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, মিশন ইসলাম (২২) নামের প্রেমিক নারীর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে খালে ফেলে দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে মিশনের মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিশন ইসলাম (২২) বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকের হাতে নারীর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
- 📌 লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালে ফেলা হয়।
- 📌 মা বানু আক্তার (৪৩) ও বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪) সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহের বাসিন্দা, জয়দেবপুরে একা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
- 📌 ১১ সেপ্টেম্বর খালে সুটকেস ও বস্তা উদ্ধার করা হয়, পরে পিবিআই তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
📰 বিস্তারিত
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মিশন ইসলাম (২২) নারীর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০), যিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় একা ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের পর গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, গার্মেন্টসে চাকরির সময় মিশনের সঙ্গে ডলির পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। বিয়ে নিয়ে বিরোধের সময় মিশন তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে লুঙ্গি ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার (৪৩) লাশটি দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনায় তিনিও যুক্ত হন। সুটকেসে লাশটি না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) ডেকে অটোরিকশায় করে সুটকেস ও বস্তা ভবানীপুরের একটি ব্রিজ থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়।
১২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। এরপর পিবিআই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, নিহতের পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
"আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়দেবপুর, গাজীপুর; ভবানীপুর, গাজীপুর; ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশন ইসলাম (২২), বানু আক্তার (৪৩), মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪), ডলি আক্তার (৩০), পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন গ্রেপ্তার, ৩০ বছর ডলির বয়স, ২২ বছর মিশনের বয়স, ১৬৪ ধারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!