📌 সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইথিওপিয়ান প্রবাসীদের মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। পরিবাররা ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারছেন না এবং মৃত্যুর সনদপত্র বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পাননি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অবস্থাকে 'নির্যাতন ও নিপীড়ন' বলে বর্ণনা করছে
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের পরিবাররা মৃতদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে না পেরে তারা সান্ত্বনা থেকে বঞ্চিত। ইথিওপিয়ান তরুণ কিব্রম কিনফে আরেগাউইয়ের মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি, যার কারণে তার পরিবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে ২০২৬ সালের জুনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন ইথিওপিয়ানের মধ্যে একজন কিব্রম কিনফে আরেগাউইয়ের মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি, ফলে পরিবার ধর্মীয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেননি।
- 📌 সৌদি আরব ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যার মধ্যে অনেকের মৃতদেহ পরিবারকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
- 📌 মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারকে মৃত্যুর সনদপত্র বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও দেওয়া হয়নি, যা তাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
- 📌 ইথিওপিয়ান পরিবারদের মতে, তাদের তরুণরা সৌদি আরবে অন্যায়ভাবে মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
- 📌 জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক নাজিলা ঘানেয়া সৌদি আরবের মৃতদেহ আটক রাখাকে 'নির্যাতন ও নিপীড়ন' বলে বর্ণনা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইথিওপিয়ান প্রবাসী কিব্রম কিনফে আরেগাউইয়ের বাবা কিনফে আরেগাউই বলেছেন, "পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাবো না।" তিনি জানান, তার ছেলে ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়ায় এই দুঃখ তার জীবনের সারাজীবনের হয়ে থাকবে।
সৌদি আরব বিশ্বের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলির মধ্যে চীন ও ইরানের পর তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে সৌদি আরব ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক দুয়া ধাইনি বলেছেন, "মৃতদেহ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারকেও শাস্তি দেয়া।"
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইথিওপিয়ানদের মধ্যে অন্যতম সিগাবু গেব্রেমারিয়ামের পরিবারও মৃতদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তার বাবা হাগোস গেব্রেমেস্কেল বলেছেন, তার ছেলে ২৬ বছর বয়সে দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাড়ে তিন বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন। তার পরিবার জানতে পারেননি যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
কিব্রম আরেগাউই প্রথমবার ২০২০ সালে বৈধ ভিসা ছাড়াই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ১৫ মাস কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে আবার সৌদি আরবে ফিরে আসেন। সীমান্ত পার হওয়ার সময় তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। তার বাবা জানান, তার ছেলে নির্দোষ ছিলেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
"সে আমাদের সাথে কথা বলারও সুযোগ পায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি,"
সিগাবু গেব্রেমারিয়ামের মা লেতেখ্রিস্টোস বলেছেন, তার ছেলে শিগগিরই দেশে ফিরে আসবে বলে আশা করতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে শেষকৃত্যের আয়োজন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার সব সন্তান মেয়ে, সে-ই ছিল একমাত্র ছেলে। বোনদের অনেক আশা ছিল যে তাদের ভাই শিগগিরই বাড়ি ফিরে আসবে। এখন তাদের কষ্ট আমার চেয়েও বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (খামিস মুশাইত কারাগার, আসির প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিব্রম কিনফে আরেগাউই, সিগাবু গেব্রেমারিয়াম, কিনফে আরেগাউই, হাগোস গেব্রেমেস্কেল, লেতেখ্রিস্টোস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৬ জন (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত), ২৫ বছর (কিব্রমের বয়স), ২৬ বছর (সিগাবুর বয়স), ১৫ মাস (কিব্রমের প্রথম কারাগার সময়), ৩ বছর (সিগাবুর কারাগার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!