📌 মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন। প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় দাবি করা হয়েছে সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া। আমার বাংলাদেশ পার্টি আয়োজিত আলোচনায় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত ফি, সিন্ডিকেট ও শ্রমিকদের হয়রানির বিরুদ্ধে দাবি তুলেছেন
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশের স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থ পাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক আলোচনায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স** পাঠান বাংলাদেশি প্রবাসীরা, কিন্তু তাদের স্বার্থরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের অভাব লক্ষ্য করা যায়
- 📌 **বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের হয়রানি** বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ
- 📌 **সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়** বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন
- 📌 **রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ব্যবস্থা** পরিবর্তন করে সব যোগ্য এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু
- 📌 **অনুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে** সব লেনদেন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
আলোচনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেছেন, প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এ অর্থ না এলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা কী হতো, তা ভাবা দরকার। তিনি দাবি করেছেন, প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। বিশেষত, বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ধনী পরিবারের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ মেটাতে দেশ থেকে চলে যায়। তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আইন করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসা করতে হলে তাঁদের ঘামের অর্থ থেকে কতটুকু নেওয়া ন্যায্য, তা বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কয়েক বছরেও ঋণের টাকা তুলতে পারেন না।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে লাইসেন্স দেয়। তাহলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি কাজের সুযোগ দেওয়া হবে না কেন? তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্টসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা না করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সক্ষম সব এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া উচিত।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, রাষ্ট্র শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি দাবি করেছেন, শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে পুরো শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আলোচনায় এবি পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
"কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না দিয়ে যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া। সরকারনির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া বন্ধ করা এবং সব লেনদেন ব্যাংক বা অনুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যমে করা। দালাল, সাব-এজেন্ট ও ডিজিটাল মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধন, নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ডিআরইউ মিলনায়তন), মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু আহমেদ (আইসিবি চেয়ারম্যান), আসাদুজ্জামান রিপন (বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান), মজিবুর রহমান মঞ্জু (এবি পার্টি চেয়ারম্যান), আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (এবি পার্টি সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বিলিয়ন ডলার (বছরে রেমিট্যান্স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!