📌 বাংলাদেশি শ্রমিকদের নতুন শ্রমবাজারে যাওয়ার ফলে প্রতারণা ও পাচারের ঘটনা বেড়েছে। রাশিয়া ও কম্বোডিয়ায় যাওয়া কর্মীদের মধ্যে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। সরকারের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে এই অবস্থা।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রিয় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং নতুন বাজারে যাওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। সরকারের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে এই অবস্থা। গত বছর রাশিয়ায় পাঠানো লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি প্রতারণার শিকার হন এবং চারজন সহকর্মী মারা যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাশিয়া ও কম্বোডিয়া**: বাংলাদেশের নতুন শ্রমবাজার হিসেবে উঠে এসেছে, কিন্তু প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৬৩ জন এবং রাশিয়ায় ৪ হাজার ৭২৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
- 📌 **প্রতারণার শিকার**: রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেছেন, সৌদি আরবে যাওয়া ৭০ শতাংশ কর্মী স্বল্প মেয়াদে কাজ পায় না।
- 📌 **শ্রমবাজার সংকুচিত**: ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের মতো শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে।
- 📌 **কর্মী ছাড়পত্র কমেছে**: ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) প্রায় ৫ লাখ কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ৭ লাখ ৪০ হাজার থেকে কমেছে।
- 📌 **সরকারের লক্ষ্য**: সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা পূরণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে গত বছর রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল বাবুর্চির কাজের জন্য, কিন্তু তিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ও তার ১৫ জন সহকর্মীকে প্রশিক্ষণ ছাড়াই অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। চারজন সহকর্মী মারা যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুই মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন। জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, "শুরুতে প্রশিক্ষণ ছাড়াই অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে একদিন তা চালানো শেখানো হয়েছিল। আমরা ১৬ জন যুদ্ধের ক্যাম্পে ছিলেন। চারজন মারা যাওয়ার পর আমার দিন কাটছিল আতঙ্কে।"
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৬৩ জন এবং রাশিয়ায় ৪ হাজার ৭২৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। কম্বোডিয়া বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে ৮ নম্বর এবং রাশিয়া ১৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। তবে এই নতুন বাজারে যাওয়ার ফলে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের মতো শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত জুন মাসে মালয়েশিয়া সফর করেন এবং শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো তা খোলেনি।
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আরব আমিরাত ও কাতারের বাজার সংকুচিত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বন্ধ। দেশেও কাজ না থাকায় যেকোনো উপায়ে বিদেশে যেতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে। তিনি আরও বলেন, "৭০ শতাংশ কর্মী সৌদি আরবে যাচ্ছেন স্বল্প মেয়াদে। গিয়ে অনেকেই কাজ পান না।"
"বন্ধ শ্রমবাজার চালু এবং নতুন বাজার তৈরি করতে না পারলে পাচার ও প্রতারণা কমবে না। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কাজ করতে হবে এ খাতে।"
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৬ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং নব্বইয়ের দশকে বাড়তে থাকে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বছরে গড়ে ১০ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে যাচ্ছিল। ২০২৩ সালে সর্বাধিক ১৩ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে বর্তমান অবস্থায় কর্মী ছাড়পত্র কমেছে ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল হক, আলী হায়দার চৌধুরী, তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ জন (যুদ্ধক্ষেত্রে), ১২ হাজার ২৬৩ জন (কম্বোডিয়ায়), ৪ হাজার ৭২৭ জন (রাশিয়ায়), ৫ লাখ (২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে), ৭ লাখ ৪০ হাজার (গত বছরের একই সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!