📌 প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর পথ শিগগিরই উন্মুক্ত হবে। সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পথ শিগগিরই উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে
- 📌 ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে
- 📌 গত ২৪ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডেমি-অফিশিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে
- 📌 সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলছে
- 📌 বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর পথ শিগগিরই উন্মুক্ত হবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হলেও ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই বাংলাদেশী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সরকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, সেশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, মরিশাস, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, বিদেশে বাংলাদেশী মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সপ্তম যৌথ কমিটির সভা গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার হিসেবে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকায় এসব দেশে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কম বা কোনো খরচ ছাড়াই নিয়মিতভাবে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) ও চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিতে ‘প্রোভাইডিং ড্রাইভিং ট্রেনিং ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিআই) একটি বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
‘খুব শিগগিরই বাংলাদেশী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফুল হক চৌধুরী (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!