📌 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব থাকলেও ক্ষমতা প্রবীণদের হাতে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক যুব দিবসে আয়োজিত আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা তরুণদের ক্ষমতা ও দক্ষতার সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তরুণদের ক্ষমতা ও নেতৃত্বের সুযোগ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় প্রবীণদের দখল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব ছিল, তবে বিজয়ের পর ক্ষমতা প্রবীণদের হাতে চলে গেছে
- 📌 রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা তরুণদের পরিবর্তে প্রবীণদের দখলে থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ সীমিত
- 📌 বিসিএস, আইএনজিও বা বিদেশে কর্মসংস্থানকে তরুণেরা সম্মানজনক পেশা মনে করলেও কৃষি ও উদ্যোক্তাকে মূল্যায়ন করা হয় না
- 📌 সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আকর্ষণের প্রধান কারণ চাকরির নিরাপত্তা, যা প্রকৃত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়
- 📌 প্রবীণ প্রজন্মের উচিত তরুণদের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য আচরণের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণেরা বারবার পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতা প্রবীণদের হাতে চলে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা তরুণদের পরিবর্তে প্রবীণদের দখলে থাকায় তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোনো রাজনৈতিক রীতির পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, বিসিএস, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা বা বিদেশে কর্মসংস্থানকে তরুণেরা সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচনা করলেও কৃষি, উদ্যোক্তা হওয়া বা কারিগরি শিক্ষাকে এখনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তরুণদের ঘন ঘন পেশা পরিবর্তনের কারণে গভীর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। সাফি রহমান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি তুলনামূলকভাবে তরুণ রাষ্ট্র হওয়ায় এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। প্রবীণ প্রজন্মের উচিত তরুণদের এই পরিবর্তনে বাধা না দেওয়া।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, প্রবীণ প্রজন্মের উচিত তরুণদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজেদের ভাষা নয়, বরং শ্রদ্ধাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য আচরণের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে অনানুষ্ঠানিক আন্তঃপ্রজন্ম যোগাযোগ বৃদ্ধি করা গেলে এই বিভাজন কমে আসবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান বলেন, সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আকর্ষণের প্রধান কারণ চাকরির স্থিতিশীলতা। তিনি বিসিএস-কেন্দ্রিক মানসিকতাকে ‘স্ক্যাম’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না আসলে কোনো পেশাতেই প্রকৃত নিরাপত্তাবোধ তৈরি সম্ভব নয়।
"বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণেরা নেতৃত্ব দিয়েছেন; কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে, বিজয়ের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা সিনিয়রদের হাতে ক্ষমতা চলে গেছে, তরুণদের যেতে হয়েছে ‘ব্যাকসিটে’। দেশের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা তরুণদের পরিবর্তে অন্যরা দখল করে ফেলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কারওয়ান বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইফতেখারুজ্জামান, সাফি রহমান খান, মো. আবদুল কাইয়ুম, রাশেদা রওনক খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!