📌 জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৯২টি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মানববন্ধনে উঠে এসেছে নারী ও শিশু নিরাপত্তার ক্রমাবনতির চিত্র
বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৯২ জন। এই পরিসংখ্যানের মধ্য দিয়ে দেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার
- 📌 ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৯২টি
- 📌 বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি
- 📌 নারীদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকার আহ্বান
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা দেশে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তা মূলত ১৪টি পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া চিত্র। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
ফওজিয়া মোসলেম আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারীর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, ‘নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গত সাত মাসে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা এখন আর কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজসহ প্রত্যেক নাগরিককে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরীন, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক দীপ্তি শিকদার। কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক জনা গোস্বামী।
‘নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। দেশ আজ ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় নারীকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফওজিয়া মোসলেম, মালেকা বানু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৬৬৭ জন, ২৯২ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!