📌 ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম অয়ন তিন হাজার পাঁচশ’র বেশি বন্যপ্রাণী ও সাড়ে সাতশ’ সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত সংগঠন দেশের ৬০ জেলায় সাপ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছে।
ফেনী জেলার এক শিক্ষার্থীর অসাধারণ উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী ও বিষধর সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম অয়ন তিন হাজার পাঁচশ’র বেশি বন্যপ্রাণী এবং সাড়ে সাতশ’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম অয়ন তিন হাজার পাঁচশ’র বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছেন
- 📌 সাড়ে সাতশ’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন দশ প্রকারের সাপ
- 📌 তার সংগঠন দেশের প্রায় ষাটটি জেলায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে
- 📌 জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে তার সংগঠনের কর্মকাণ্ড
- 📌 স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছেন
📰 বিস্তারিত
ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের মৃত মাহবুবুল আলম ও পারভীন আক্তারের সন্তান নজরুল ইসলাম অয়ন ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তার এই অনুরাগই তাকে পরিণত করেছে দেশের অন্যতম সাহসী বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী হিসেবে। তিনি ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়নরত অবস্থায় নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
তার নেতৃত্বে গঠিত সংগঠন দেশের প্রায় ষাটটি জেলায় ছড়িয়ে থাকা রেস্কিউয়ারদের সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে কাজ করছে। এই সংগঠনটি ইতোমধ্যে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। অয়ন জানান, তিনি বিষধর শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা, কাল নাগিনী, দাড়াশসহ দশ প্রকারের সাপ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া তিনি বন বিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল, শঙ্খচিল, ভুবন চিলসহ তিন হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন করেছেন।
তিনি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রচার করছেন। তার মতে, সাপে কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই একমাত্র সমাধান, ওঝা বা কুসংস্কারের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। অয়ন কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই কাজ করছেন না বলে জানান। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসাই তাকে এই মহৎ কাজে অনুপ্রাণিত করেছে।
"যেখানে সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেখানে বিভিন্ন প্রকার বিষধর সাপের সঙ্গে আমার নিত্য বসবাস। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো স্থানে লোকালয়ে সাপ ঢুকে পড়েছে, এমন খবর কেউ দিলেই ছুটে যাই আমি। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে পরম মমতায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে মানুষের বসতি থেকে সরিয়ে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করি।"
ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন অয়নের কর্মকাণ্ডকে প্রশংসা করে বলেন, তার সাহস, দায়িত্ববোধ এবং প্রাণীদের প্রতি আন্তরিকতা একজন শিক্ষক হিসেবে তাকে মুগ্ধ করেছে। সামাজিক বন বিভাগের ফেনী অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অয়ন দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের সাথে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন এবং ফেনী অঞ্চলে মানুষের আতঙ্ক দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম অয়ন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিন হাজার পাঁচশ’, সাড়ে সাতশ’, দশ প্রকার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!