📌 দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের ক্ষতি করে বলে আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। দৈনিক চার ঘণ্টার বেশি টিভি দেখলে ডিমেনশিয়া, বিষণ্নতা ও পারকিনসন্সের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন
দৈনিক চার ঘণ্টার বেশি সময় টিভি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের ক্ষতি করে বলে আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত টিভি দেখার সঙ্গে ডিমেনশিয়া, বিষণ্নতা ও পারকিনসন্স রোগের উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৈনিক চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টিভি দেখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়
- 📌 অতিরিক্ত টিভি দেখার ফলে বিষণ্নতার ঝুঁকি বেড়ে যায় ৩৫ শতাংশ
- 📌 পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ১৬ শতাংশ
- 📌 মস্তিষ্কের ভাষা ও চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো ছোট হয়ে যায় মাঝবয়সীদের ক্ষেত্রে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক এক ঘণ্টার কম টিভি দেখেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় যাঁরা চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টিভি দেখেন, তাঁদের ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ২৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তাঁদের বিষণ্নতা ও পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিও যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ ও ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
গবেষকদের মতে, টিভি দেখা একটি নিষ্ক্রিয় কাজ। এ সময় মস্তিষ্ক তথ্য গ্রহণ করে কিন্তু বিশ্লেষণ করে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। যুক্তরাজ্যের গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যানে দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত অতিরিক্ত টিভি দেখতেন, তাঁদের মস্তিষ্কের ভাষা ও চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো তুলনামূলক ছোট ছিল।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. লিয়ানা ওয়েন জানান, অফিসে বসে কাজ করার সময় মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু টিভি দেখার সময় তা নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে দৈনিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মানসিকভাবে সক্রিয় কাজ করলে ব্রেন-ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি কমে। তিনি বলেন, "টিভি দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। খেলাধুলা, বই পড়া বা নতুন কিছু শেখার সময় নষ্ট না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা উচিত।"
"টিভি দেখা একটি প্যাসিভ বা নিষ্ক্রিয় কাজ। সেখানে মস্তিষ্ক শুধু তথ্য গ্রহণ করে। কিন্তু সেভাবে প্রসেস বা বিশ্লেষণ করে না। অন্যদিকে অফিসে বা কম্পিউটারে বসে কাজ করার সময় ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, প্রজেক্ট সাজানো বা সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার মতো কাজে মস্তিষ্কের নেটওয়ার্কগুলো প্রতিনিয়ত সক্রিয় থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. লিয়ানা ওয়েন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ, ১৬ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৬৪ বছর, ১ হাজার ৭০০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!