📌 বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন চলছে। ১৫-২০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলিত হচ্ছে, যা ভূমি ও পরিবেশের মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া দরকার
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় অবৈধভাবে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অপারগত কার্যক্রম চলছে, যা স্থানীয় ভূমি ও পরিবেশের মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের জরিমানার পরেও ১০ থেকে ১২ জন মালিকের অধীনে পরিচালিত অবৈধ ড্রেজার ও রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলিত হচ্ছে। এছাড়াও, ছোট খাল দিয়ে বালুবাহী বড় বাল্কহেডের যাতায়াত ঢেউয়ের তোড়ে দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাটের চিতলমারীতে অবৈধভাবে ১৫-২০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন চলছে, যা ভূমি ও পরিবেশের মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
- 📌 উপজেলার খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া ও পিঁপড়াডাঙ্গা সহ বিভিন্ন গ্রামে বালু উত্তোলনের কারণে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
- 📌 চিতলমারী সদর বাজারের পাশে রাস্তায় অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার পরিচালনার কারণে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত দুটি পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 অভিযোগকারী বাশার খান বলেছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মসজিদ রক্ষার জন্য বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, ভূগর্ভের বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- 📌 নবীর সরদার দাবি করেছেন, তাঁর বাল্কহেডের রুট পারমিট ও লাইসেন্স আছে, কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগে তা অবৈধ বলে মনে করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাটের চিতলমারীতে অবৈধভাবে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অপারগত কার্যক্রম চলছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলিত হচ্ছে। এতে ভূগর্ভের বালু ও মাটির স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও, বাল্কহেডের মাধ্যমে বালু পরিবহনের কারণে স্থানীয় খাল ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চরকুড়াতলা এলাকায় নবীর সরদার ও কামাল মেম্বার রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এতে চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে। ছোট খালে বড় বাল্কহেডের যাতায়াত ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাল্কহেডের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে এবং শেরেবাংলা কলেজ জামে মসজিদ ঝুঁকিতে পড়েছে।
অভিযোগকারী বাশার খান বলেন, ‘লাইসেন্স ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গ্রামীণ পাকা সড়ক এবং মসজিদ রক্ষার জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, ‘ভূগর্ভের বালু বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এটি বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি এবং বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
"ভূগর্ভের বালু বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা, খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গা, চরকুড়াতলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাশার খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার, নবীর সরদার, কামাল মেম্বার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-২০টি ড্রেজার মেশিন, ১০-১২ জন মালিক, ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা, ৭২ ঘণ্টায়, ১২টি পরিবার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!